একবার, দু'বার নয়, এখনও অবধি পাঁচ পাঁচবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিষয়বস্তু একটাই। কী না ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR West Bengal) নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে!

স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 15 January 2026 18:02
একবার, দু'বার নয়, এখনও অবধি পাঁচ পাঁচবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিষয়বস্তু একটাই। কী না ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR West Bengal) নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে! আর এই হয়রানির মূলে রয়েছেন রোল এবং মাইক্রো রোল অবজার্ভারদের (Roll Observer) অতিসক্রিয়তা এবং এআই থেকে স্ক্যান করতে গিয়ে বারবার ভুল করা।
যদিও একের পর এক চিঠি দেওয়ার পরও এখনও অবধি একটারও উত্তর দেননি জ্ঞানেশ কুমার। তবে বঙ্গে নিযুক্ত স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্তকে (Subrata Gupta) দ্য ওয়ালের তরফে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, "সরকারি ব্যবস্থার মধ্যেই গোটা প্রক্রিয়া চলছে। এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করেননি। সবার নির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্বই তাঁরা পালন করছেন।"
দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুব্রতবাবু বলেন, "বাংলায় যে ডেটাবেসের উপর কাজ করা হচ্ছে, তার মধ্যে যাতে কেউ হাত দিতে না পারে, সেই মতোই সুষ্ঠুভাবে কমিশনের তরফে সামলানো হচ্ছে। এমনকি অবজার্ভাররাও তালিকার মধ্যে রদবদল করতে পারবেন না। তাঁরা শুধু দেখতে পারেন তালিকায় কোন ব্যক্তির কীরকম শুনানি হয়েছে, কোন নথি জমা দিয়েছেন। মোদ্দা কথা কাজটা ঠিকভাবে হয়েছে কিনা সেটা দেখতে পারবেন। তার বাইরে তাঁদের কোনও অধিকার নেই।"
সুব্রতবাবু বলেন, "ভুলের জন্য লোকের যে হয়রানির কথা বলা হচ্ছে, সেটা আমি প্রথমেই মেনে নিয়েছি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এরকম হয়েছে তো বটেই। কিন্তু ভুলটা করেছে কারা? আমাদের গোটা প্রক্রিয়াটাই তো সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে হয়েছে। জেলাশাসকের দফতরে বা ব্লকে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাই তো কাজটা করেছেন। বলতে বাধ্য হচ্ছি এঁদেরই অনেকে কাজটা ভাল করে করেছেন। আর কিছু রয়ে গেছেন যাঁরা মনোযোগ দিয়ে করেননি। আর তাঁর জন্যই ভুলটা হয়েছে।"
স্পেশ্যাল অবজার্ভার আরও বলেন, "এটাও ঘটনা যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছে যেখানে ইচ্ছাকৃতই হোক বা অন্য কোনও কারণেই হোক, নাম সম্পূর্ণভাবে ভুল দেওয়া হয়েছে। এখন যেহেতু মেশিন এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারছে না, সেই জন্য আমাদের নোটিস পাঠাতেই হচ্ছে বিষয়টা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। দ্বিতীয়ত, যখন মেশিনের সাহায্যে ট্রান্সলেশন করা হয়েছিল, ডেটাবেস তৈরি হয়েছিল, তখন আমরা ইলেক্টোরাল রোলগুলোকে সমস্ত জেলায় পাঠিয়েছিলাম যেন সেগুলো পরীক্ষা করে যদি ঠিক করার থাকে তাহলে আমাদের জানানোর জন্য। তাহলে সেগুলো সিইও অফিস থেকে সংশোধন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সেই কাজটা হয়েছে। কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেখা গেছে কাজটা সঠিভাবে হয়নি, যার ফলে সমস্যা তৈরি হয়েছে।"
সুব্রতবাবুর কথায়, এই সংশোধন প্রক্রিয়া যদি আগে থেকেই ভাল করে করা যেত, তাহলে হয়তো বেশ কয়েক হাজার লোকের কাছে নোটিস যেত না।
এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, যাঁদের জন্য এত ভুলভ্রান্তি, মানুষের হয়রানি, যাঁদের কারণে কমিশনকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, তাঁদের থেকে কি রিপোর্ট চাওয়া হবে? সুব্রতবাবু খোলসা করে জানালেন, "আমাদের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে তালিকাটা সঠিক ভাবে প্রকাশ করা। সেটার দিকেই এখন বেশি নজর দিচ্ছি। পরবর্তীকালে নিশ্চয়ই চিহ্নিত করব, যেখানে যেখানে ভুল বেশি হয়েছে সেই জায়গাগুলো খতিয়ে দেখব। এবং যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তখন নিশ্চয়ই তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে।"