Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

এ বছর কবিতা উৎসব হয়নি মানেই দুর্নীতি! আকাদেমির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ হাস্যকর: সুবোধ সরকার

দাবি করা হয়েছে, সভাপতি সুবোধ সরকারের ঘনিষ্ঠ এক কবি বিভিন্ন আবৃত্তির দলের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিয়েছেন সেই দলগুলিকে কবিতা উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে!

এ বছর কবিতা উৎসব হয়নি মানেই দুর্নীতি! আকাদেমির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ হাস্যকর: সুবোধ সরকার

কবি সুবোধ সরকার।

শেষ আপডেট: 31 May 2025 12:44

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর্থিক অনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে কবিতা আকাদেমির বিরুদ্ধে। কবি ও বিশিষ্ট জনেদের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই দুর্নীতির জেরেই বন্ধ হয়ে গেছে কবিতা উৎসবও। সাধারণত মার্চের মধ্যে এই উৎসব আয়োজিত হলেও, এবারে এখনও তা হয়নি মে মাস পর্যন্ত। হওয়ার কোনও ঘোষণাও হয়নি এখনও। কবিতা আকাদেমির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় সরকারের তরফ থেকেই এই কবিতা উৎসবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এই খবর বা অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল কবিতা আকাদেমির সভাপতি সুবোধ সরকারের সঙ্গে। তাঁর দাবি, অনিয়ম বা স্বজনপোষণ—এসব দাবি একেবারেই মিথ্যে এবং হাস্যকর। তাঁর ব্যাখ্যা, "কবিতা আকাদেমির নিজস্ব কোনও টাকা নেই।  সমস্ত অনুষ্ঠান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট দফতর। কোথায় কখন কোন অনুষ্ঠান হবে, সেটা তারা ঠিক করে। অনেক অনুষ্ঠান এ বছর পিছিয়ে গেছে , অনেক পুরস্কার এখনও ঘোষণা হয়নি।"

এই দাবি যদিও মানতে নারাজ অভিযোগকারীরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি খোলা চিঠিও লিখেছেন। তাতে অভিযোগ, কবিতা আকাদেমি আয়োজিত কবিতা উৎসবটি এ বছর বন্ধ হয়ে গেছে আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায়। এই অভিযোগগুলির একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

চিঠিতে সই করেছেন পবিত্র সরকার, সৌরীন ভট্টাচার্য, মালিনী ভট্টাচার্য, শ্যামলকান্তি দাস, শংকর চক্রবর্তী, একরাম আলি, নির্মল হালদার, গৌতম চৌধুরী, প্রবীর ব্রহ্মচারী, রজত বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্দাক্রান্তা সেন, অংশুমান কর সহ প্রায় ৬০ জন কবি, আবৃত্তিকার, বুদ্ধিজীবীরা।

এই চিঠির প্রেক্ষিতে সভাপতি সুবোধ সরকার স্পষ্ট বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবতে পেরেছিলেন শুধু কবিতা নিয়ে একটা আকাদেমি হতে পারে। কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভাবেননি। আজ 'পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমি' গোটা ভারতবর্ষে একটি দৃষ্টান্ত।  নিউ ইয়র্ক থেকে ফ্রান্স থেকে মুম্বই থেকে বিহার থেকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বহু কবি, অধ্যাপক, স্কলার  অংশ নিয়েছেন  'কবিতা কর্নার' শীর্ষক অনুষ্ঠানে। জেলায় জেলায় ওয়র্কশপ করে এসেছে কবিতা আকাদেমি। কবিতার নির্মাণ ও সৃষ্টি নিয়ে ক্রিয়েটিভ রাইটিঙের  ক্লাস আয়োজিত হয়েছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের কবিরা চাইছেন বাংলার মতো কবিতা আকাদেমি তৈরি করতে। অথচ এখানকার দু-তিনজন  'প্রগতিশীল' কবিযশোপ্রার্থী বলছেন কবিতা আকাদেমি তুলে দিন। তাঁরা নাকি 'এই জমানায় মঙ্গল কিছু' হবে এমন আশা করেন না। আবার তাঁরাই মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়েছেন আবেদন করে তিনি যেন আকাদেমির মঙ্গলার্থে তদন্ত করেন।”

কিন্তু, কবিতা আকাদেমির এই কবিতা উৎসবটিতে স্বজনপোষণ হয় এইরকম একটি অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। বিশিষ্ট কিছু কবিদের এই উৎসবে ধারাবাহিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয় না, এমন অভিযোগও করেছেন কবিদের কেউ কেউ।

এই নিয়ে সুবোধবাবু বললেন, “কারা অভিযোগ করছেন দুর্নীতির? মূল যড়যন্ত্রকারী একজন ক্যাডার কবি শিক্ষক, দাপুটে ক্যাডার ছিলেন, তাঁর মহৎ কীর্তির বিবরণ পাওয়া যায় দুই খণ্ডে, ইউটিউবে। তিনিও অভিযোগ আনতেই পারেন নিশ্চয়, গণতন্ত্রে সেটাই দস্তুর। কিন্তু এ কথা মনে রাখতে হবে, গত আটবছর ধরে সংশ্লিষ্ট দফতর দক্ষতার সঙ্গে আকাদেমির সাংগঠনিক দিকগুলো পরিচালনা করে চলেছেন। কবিতা আকাদেমির মাননীয় সদস্য/ সদস্যরা তাতে খুশি। সভাপতি কোনও বেতন পান না। এই পদ চিরকাল অবৈতনিক। যাঁরা সদস্য তাঁরাও অকাদেমিকে ভালবেসে দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরাও কোনও অর্থ পান না। এটাই নিয়ম।ভারত সরকারের আকাদেমিগুলোও একই নিয়ম বহাল রেখেছে নেহেরুর আমল থেকে।”

কবিতা আকাদেমির বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগের পাশাপাশিই দাবি করা হয়েছে, সভাপতি সুবোধ সরকারের ঘনিষ্ঠ এক কবি বিভিন্ন আবৃত্তির দলের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিয়েছেন সেই দলগুলিকে কবিতা উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে!

সুবোধবাবুর কথায়, “এই হাস্যকর অভিযোগের উত্তরে বলি, কবিতা পড়ে যে সাম্মানিক পাওয়া তাতে  বাসভাড়া দিয়ে পাঁচ কাপ চা-ও খাওয়া যায় না। যদি কেউ কোথাও আকাদেমির নাম ভাঙিয়ে, আমার বা কোনও সদস্যের নাম করে টাকা তোলেন, তাহলে অভিযোগকারী বসে আছেন কেন? এফআইআর করুন। ক্ষুদ্রবুদ্ধিতে যতটা জানি, কেউ অসৎ উপায়ে টাকা তুললে তাকে পুলিশে দিতে হয়। কুৎসাকারীরা যদি কোনও ব্যক্তিকে প্রমাণসহ চিহ্নিত করতে পারেন তবে তাকে পুলিশে দিন।”

সুবোধবাবু আরও বলেন, “আর একটি অভিযোগ স্বজনপোষণ। কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, আলোচনা, পুরস্কার, মঞ্চ, সময় সীমা প্রতিটা বিষয় সর্বসম্মতিক্রমে  বিবেচিত হয়ে থাকে। কোনও নাম আকাশ থেকে পড়ে না। শেষ একটি অভিযোগ সংখ্যালঘুদের ডাকা হয় না। গত আট বছরের ছাপানো নামের তালিকা দেখুন তা হলেই বুঝতে পারবেন আমরা কীভাবে সারা বাংলা থেকে  প্রান্তিক অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান সংখ্যালঘুদের আমন্ত্রণ করে ডেকে আনি নন্দন চত্বরে।”

তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে জানুয়ারি মাসে শেষবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছিল কবিতা উৎসব। প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়া রেওয়াজ। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষে আর সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল না। সব মিলিয়ে, সাহিত্য ও আবৃত্তি জগতে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা একাধিক অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

তবে এসবে কান দিতে নারাজ আকাদেমির সভাপতি। তাঁর কথায়, “ধারাবাহিকতা থাকল কি থাকল না, তার উত্তর দিতে পারবে সংশ্লিষ্ট দফতর। আমি কে বলার? দু’তিনজন ক্যাডার-কবি  হিংস্র রাজনীতি করতে নেমেছেন, আশা করি মানুষ তাঁদের চেনেন। তাঁদের ধিক্কার জানাবেন। সাতশো-আটশোজন কবি, আবৃত্তিকার, কথাসমন্বয়কারী, অধ্যাপক, আলোচক, শিল্পী ডাক পেয়ে আসছেন। আর কত ডাকতে পারে একটা কবিতা আকাদেমি? অবশ্য অনুমতি পেলে,  যদি কাল চোদ্দোশো জনকে ডাকি, তাও অভিযোগ থাকবে।”


```