উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম পরীক্ষা দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিল পড়ুয়ারা। অভিযোগ, ছ’মাসের সিলেবাস চার মাসে শেষ করতে গিয়ে বেহাল অবস্থা।

উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬ (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 12 February 2026 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ হল উচ্চমাধ্যমিকের শেষ সেমিস্টারের প্রথম পরীক্ষা। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার পড়ুয়া বসল পরীক্ষায়। শেষ মুহূর্তে সব কিছু নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও সংসদ দু’দিক থেকেই নেওয়া হয় কড়া প্রস্তুতি।
আগের সেমিস্টারে প্রশ্ন ছিল মূলত মাল্টিপল চয়েস (MCQ)। কিন্তু এবার পরীক্ষার্থীদের সামলাতে হয় ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (Descriptive Questions)। সংসদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, উত্তর লিখতে হবে শব্দসংখ্যা মেনে। কোনও পরীক্ষার্থীকে আলাদা লুজ শিট (Loose Sheet) বা অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না। মূল উত্তরপত্রের নির্দিষ্ট জায়গাতেই লিখে শেষ করতে হবে। বাড়তি জায়গার সুযোগ নেই।
পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে ক্ষোভ উগরে দেয় কিছু ছাত্র। নিজেদের গিনিপিগ ব্যাচের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের দাবি, এবার এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছে। আশা করি পরের বার পরীক্ষা সকলের ভাল হবে। যারা প্রশ্ন তৈরি করেছেন বা এই সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করেছেন, তারা নিশ্চয়ই অনেক বেশি পড়াশোনা জানেন।
অনেকেই এবার পড়ার সময় কম পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। একাংশের দাবি, ছ'মাসের সেমিস্টার গ্যাপ, হাতে সময় পাওয়া গেল মোটে চার। শেষই হল না সিলেবাস। তাতে যেমন পরীক্ষা হওয়ার কথা, তেমনই হয়েছে।
এনিয়ে অবশ্য সংসদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে চালাতে বেশ কিছু সতর্কতা নেয় সংসদ। এদিন সকাল ৯টা ৫০ মিনিটেই কেন্দ্রগুলিতে প্রশ্নপত্র বিলি হয়। পরীক্ষা শুরু সকাল ১০টায়। প্রতিটি কেন্দ্রেই কড়া নজরদারি—পর্যাপ্ত গার্ড (Guard) রাখা, মোবাইলবন্দি পরিবেশ তৈরি, অনিয়ম রুখতে অতিরিক্ত তৎপরতা—সবই নিশ্চিত করা হয়।
গার্ড দিতে এবার আশপাশের মাধ্যমিক (Madhyamik) ও প্রাথমিক (Primary) স্কুলের শিক্ষকদেরও মাঠে নামানো হয়। অন্যদিকে নির্বাচনের আবহ ও SIR (School Inspection Report)–এর দায়িত্ব যাতে পরীক্ষায় প্রভাব না ফেলে, তার জন্য নির্বাচন কমিশন (Election Commission) স্কুল পরিদর্শকদের পরীক্ষার দিনগুলিতে SIR–এর কাজ থেকে সম্পূর্ণ ছাড় দিয়েছে।
পড়ুয়াদের সুবিধায় পরিবহণ দফতরও কোমর বেঁধে নামে এবার। রাস্তায় নামানো হয় অতিরিক্ত সরকারি ও বেসরকারি বাস (Additional Buses), যাতে সকাল সকাল পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়। পুলিশি নিরাপত্তাও ছিল চোখে পড়ার মতো। মোড়ে মোড়ে পুলিশি সক্রিয়তা নজরে পড়ে স্পষ্ট।