১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরুর আগেই সামনে এসেছে একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। শিক্ষক ঘাটতির কারণে এ বছর পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সেই ঘাটতি মেটাতে প্রাথমিক স্কুল থেকে প্রায় ১২ হাজার (সম্ভাব্য সংখ্যা) অতিরিক্ত শিক্ষককে পরীক্ষার কাজে নিয়োগ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

ছবিঃ দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 9 February 2026 20:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরুর আগেই সামনে এসেছে একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। শিক্ষক ঘাটতির কারণে এ বছর পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সেই ঘাটতি মেটাতে প্রাথমিক স্কুল থেকে প্রায় ১২ হাজার (সম্ভাব্য সংখ্যা) অতিরিক্ত শিক্ষককে পরীক্ষার কাজে নিয়োগ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরীক্ষা পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইনভিজিলেটর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এ বছর বেশিরভাগ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী এসআইআর-এর কাজের সঙ্গে যুক্ত। আর এই শিক্ষক ঘাটতির কারণেই যাবতীয় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কাউন্সিল।
১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন স্তরে পরীক্ষা হবে। Semester IV, Semester III Supplementary এবং পুরনো পদ্ধতির উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। তিনটি পরীক্ষায় মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার। এর মধ্যে ছাত্র ৪৪.৪০ এবং ছাত্রী ৫৫.৬০ শতাংশ। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি।
রাজ্যজুড়ে মোট ৮২২টি মূল পরীক্ষা কেন্দ্র এবং ২১০৩টি ভেন্যুতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ১০৪টি ভেন্যুকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ন্যূনতম দুজন করে ইনভিজিলেটর বা পরিদর্শক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কড়া ব্যবস্থা থাকছে বলে জানিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। প্রতিটি ভেন্যুর মূল গেট এবং ভেন্যু সুপারভাইজারের কক্ষে সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষাকক্ষে মোবাইল বা কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর এনরোলমেন্ট-সহ সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
পরীক্ষার্থীদের সকাল ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের সামনেই নির্ধারিত সময়ে খোলা হবে। সিল ওপেনিং ফর্ম্যাট মানতে হবে অর্থাৎ পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র খোলা যাবে না। উত্তরপত্র এবং ওএমআর শিটে সঠিক তথ্য পূরণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৪৬৫ জন পরীক্ষার্থীর জন্য রাইটার, অতিরিক্ত সময় এবং ইন্টারপ্রটার-সহ প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক এবং জেলা স্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে, যাতে কোনও সমস্যা হলেই দ্রুত সমাধান করা যায়। সব মিলিয়ে শিক্ষক স্বল্পতার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও উচ্চ মাধ্যমিক নির্বিঘ্নে সারতে প্রশাসনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে।