পিএম কেয়ার্স সরকারি হিসাবের আওতায় পরিচালিত হয় না এবং সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছানুদানের উপর নির্ভরশীল, তাই সংসদে এই সংক্রান্ত প্রশ্ন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এই অবস্থানেই আবার প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, জনসাধারণের অর্থে গড়ে ওঠা একটি তহবিলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 February 2026 20:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী কেয়ার্স ফান্ড (PMCares Fund) সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন সংসদে গ্রহণযোগ্য নয় - এই অবস্থান ফের স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় সরকার (Central Govt)। লোকসভা সচিবালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই তহবিল সংসদীয় নজরদারির আওতায় পড়ে না। কেন্দ্রের এই ব্যাখ্যা সামনে আসতেই ফের বিতর্ক তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক মহলে, বিশেষ করে বিরোধী শিবিরে।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পিএম কেয়ার্স (PMCares Fund) একটি জনকল্যাণমূলক ট্রাস্ট। এই তহবিল সরকার থেকে অর্থ পায় না এবং কোনও ভাবেই সরকারি বাজেটের অংশ নয়। ফলে এর কাজকর্ম, অনুদান বা ব্যয়ের খুঁটিনাটি তথ্য জানতে চেয়ে সংসদে (Parliament) প্রশ্ন তোলা নিয়মসঙ্গত নয়।
কেন্দ্রের যুক্তি
পিএম কেয়ার্স সরকারি হিসাবের আওতায় পরিচালিত হয় না এবং সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছানুদানের উপর নির্ভরশীল, তাই সংসদে এই সংক্রান্ত প্রশ্ন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এই অবস্থানেই আবার প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, জনসাধারণের অর্থে গড়ে ওঠা একটি তহবিলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।
কংগ্রেসের এক জাতীয় মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, আরটিআইয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আগেই পিএম কেয়ার্স সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। এবার সংসদ সদস্যদের পক্ষেও প্রশ্ন তোলার রাস্তা বন্ধ করা হল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন - যদি সত্যিই এই তহবিল জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে তথ্য প্রকাশে ভয় কোথায়?
পিএম কেয়ার্স
ফান্ড গঠিত হয় ২০২০ সালের মার্চ মাসে, কোভিড-১৯ অতিমারির (Covid-19) সময়। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য এই তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে বলে সরকার দাবি করে। ব্যক্তি, কর্পোরেট সংস্থা এবং বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে এই ফান্ডে অনুদান এসেছে।
গত মাসের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর লোকসভা সচিবালয়কে জানায়, সংসদের কার্যবিধির ৪১ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী পিএম কেয়ার্স, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা তহবিল (এনডিএফ) সংক্রান্ত প্রশ্ন গ্রহণযোগ্য নয়। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে পিএম কেয়ার্স ফান্ডে জমা ছিল ৬,২৮৩.৭ কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বক্তব্য, এই তিনটি তহবিলই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছানুদানের মাধ্যমে পরিচালিত এবং কোনওটিতেই সরকারি বাজেটের অর্থ ব্যবহৃত হয় না। সেই কারণেই সংসদীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে এগুলিকে একই শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা রাজনৈতিক বিতর্ক থামাতে পারছে না বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।