আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি— অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন, ভিকি কৌশল, অনন্যা পাণ্ডে, পরিচালক করণ জোহর, মধুর ভাণ্ডারকর, রমেশ তৌরানি এবং সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর।

‘হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সঙ্ঘ জার্নি— নিউ হরাইজনস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রবিবার ভাগবত বলেন।
শেষ আপডেট: 9 February 2026 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরএসএস-এর (Rashtriya Swayamsevak Sangh) শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের বক্তৃতামালায় মুম্বইয়ে সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, বিজেপির (Bharatiya Janata Party) রাজনৈতিক সাফল্যের মূল উৎস আরএসএস-এর দীর্ঘদিনের আদর্শিক লড়াই ও সংগঠনিক শক্তি। তাঁর কথায়, বিজেপির ‘আচ্ছে দিন’ এসেছে সঙ্ঘের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই।
‘হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সঙ্ঘ জার্নি— নিউ হরাইজনস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রবিবার ভাগবত বলেন, “আচ্ছে দিন বিজেপির কারণে আসেনি, বরং আমাদের কঠোর পরিশ্রমের কারণেই আচ্ছে দিন এসেছে। আমরা রাম মন্দির আন্দোলনের (Ram Temple movement) সঙ্গে অটলভাবে যুক্ত ছিলাম, আর যারা এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছে, তারাই রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এই সাফল্যের পিছনে মূল ভূমিকা ছিল স্বেচ্ছাসেবকদের (volunteers) ধারাবাহিক ত্যাগ ও আদর্শগত নিষ্ঠার।
বীর সাভারকর (Veer Savarkar) প্রসঙ্গে ভাগবত আবারও ভারতরত্ন (Bharat Ratna) দেওয়ার দাবি তোলেন। যদিও তিনি জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটিতে তিনি নেই। তবে সুযোগ পেলে বিষয়টি তুলবেন বলেও জানান। তাঁর মন্তব্য, “স্বতন্ত্র বীর সাভারকরকে যদি ভারতরত্ন দেওয়া হয়, তবে পুরস্কারের মর্যাদা আরও বাড়বে। আর না পেলেও তিনি ইতিমধ্যেই কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের সম্রাট।”
মোহন ভাগবত বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) এমনভাবে তৈরি করা উচিত, যাতে সকলকে বিশ্বাসে নিয়ে এগোনো যায় এবং তা যেন কোনও বিভাজনের কারণ না হয়। আরএসএস-এর শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি— অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন, ভিকি কৌশল, অনন্যা পাণ্ডে, পরিচালক করণ জোহর, মধুর ভাণ্ডারকর, রমেশ তৌরানি এবং সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর।
ভাগবত বলেন, “এটা যেন সমাজে বিভাজন তৈরি না করে। উত্তরাখণ্ডে তিন লক্ষের বেশি প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল এবং সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি পাশ হয়েছে।” আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, “আমরা সবাই এক সমাজের মানুষ।” মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাস, বন্ধুত্ব ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম প্রসঙ্গে ভাগবতের মন্তব্য, “ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে সেই শান্তি দেখা যায় না। ধর্মে যদি আধ্যাত্মিকতা না থাকে, তবে তা প্রভাব বিস্তারকারী ও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। আজকের দিনে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মে যা দেখা যায়, তা যিশু খ্রিস্ট ও হজরত মুহাম্মদের শিক্ষার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমাদের প্রকৃত ইসলাম ও প্রকৃত খ্রিস্টধর্মের চর্চা প্রয়োজন।”
সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, তিনি বিষয়টির খুঁটিনাটি এখনও দেখেননি। তবে তাঁর মতে, বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে থাকা সম্ভব নয়। চুক্তিতে সব সময়ই দেওয়া-নেওয়া থাকে এবং তা হওয়া উচিত উভয় পক্ষের লাভের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, “এটা যেন হয় উইন-উইন পরিস্থিতি, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা কোনওভাবেই ক্ষতির মুখে না পড়ি।”
অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচলিত মডেলের থেকে কিছুটা আলাদা সুর শোনা যায় ভাগবতের কথায়। তিনি ‘গণ-উৎপাদনের’-এর বদলে ‘জনগণের দ্বারা উৎপানের’ (production-by-masses) নীতির পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর যুক্তি, উৎপাদন যদি হাজার হাজার জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে খরচ কমবে, গুণমান বাড়বে এবং দেশের পণ্যের বিদেশি বাজারও প্রসারিত হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, প্রযুক্তি আটকানো যাবে না, বরং তাকে আয়ত্ত করতে হবে। তবে তা যেন ‘চাকরি ধ্বংসকারী’ না হয়ে ‘চাকরির সুযোগ সৃষ্টিকারী’ হয়, সে দিকেই নজর দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের জনসংখ্যা বিপুল। তাই উন্নয়নের প্রতিটি ধাপই এমন হতে হবে, যেখানে কাজের সুযোগ বাড়বে। এআই আসবেই, কিন্তু আমরা সেটাকে এমনভাবে কাজে লাগাব, যাতে কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।”
সার্বিক ভাবে মোহন ভাগবতের বক্তব্যে রাজনৈতিক ভাবে একটি স্পষ্ট বার্তা উঠে আসে— বিজেপির ক্ষমতায় আসার ইতিহাসকে আরএসএস-এর সংগঠনিক পরিকাঠামো ও দীর্ঘদিনের মতাদর্শিক সংগ্রাম থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না। বরং আরএসএস-ই বিজেপির রাজনৈতিক উত্থানের ভিত্তিভূমি তৈরি করেছে, এই দাবি ফের একবার জোরের সঙ্গে সামনে আনল সঙ্ঘ নেতৃত্ব।