দিল্লির অন্তত ন’টি স্কুলে একযোগে বোমা মারার হুমকি দিয়ে ইমেল পৌঁছনোর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজধানী জুড়ে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আসে ওই ইমেল, যেখানে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়।
.jpeg.webp)
জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে দিল্লি পুলিশ, দমকল ও বম্ব নিষ্ক্রিয়করণ বাহিনী।
শেষ আপডেট: 9 February 2026 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বাজেট অধিবেশনে কেন্দ্রীয় অর্থবিলের উপর আলোচনা শুরুর আগেই নতুন সংসদ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। একইসঙ্গে দিল্লির অন্তত ন’টি স্কুলে একযোগে বোমা মারার হুমকি দিয়ে ইমেল পৌঁছনোর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজধানী জুড়ে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আসে ওই ইমেল, যেখানে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে দিল্লি পুলিশ, দমকল ও বম্ব নিষ্ক্রিয়করণ বাহিনী।
যে সব স্কুলে হুমকি মেল করেছে, তার মধ্যে রয়েছে— লোরেটো কনভেন্ট স্কুল (দিল্লি ক্যান্ট), কেমব্রিজ স্কুল (শ্রীনিবাসপুরী), বেঙ্কটেশ্বর স্কুল (রোহিণী), কেমব্রিজ স্কুল (নিউ ফ্রেন্ডস কলোনি), দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল (সাদিক নগর), সিএম স্কুল (রোহিণী), ডিটিএ স্কুল (আইএনএ) এবং বালভারতী স্কুল (রোহিণী)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্কুলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কিছু স্কুলে পড়ুয়া ও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়, আবার কয়েকটি স্কুলে সাময়িকভাবে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
হুমকি ইমেলের ভাষা ছিল উসকানিমূলক ও চরমপন্থী। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ইমেলে দাবি করা হয়েছে— “দিল্লি হবে খলিস্তান” এবং সেখানে “খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি”-র উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি আফজল গুরুর নামও টানা হয়েছে। ইমেলে লেখা ছিল, দিল্লি বনেগা খলিস্তান, আজ শহিদ আফজল গুরুর স্মৃতিদিবস। দুপুর ১টা ১১ মিনিটে বোমা বিস্ফোরণ হবে। স্কুলের ভিতর আজ ধামাকা হবে। হিন্দু-স্তানি সংসদের ভিতর হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ১১ মিনিটে। মোদী-শাহ-জয়শঙ্কর, খলিস্তানের শত্রু। ইংরেজি হরফে গুরুমুখী ভাষায় লেখা মেলের শেষে লেখা রয়েছে খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি।
এই ইমেলে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ১১ মিনিটে সংসদ ভবনে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তদন্ত শুরু করেছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।পুলিশের তরফে সাধারণ নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে এবং কেবলমাত্র সরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে, কে বা কারা এই হুমকির নেপথ্যে রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।