বৈঠকে ভারত ও কানাডা (India-Canada Meeting) ঘোষণা করেছে যে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার জন্য তারা একটি ‘অভিন্ন কর্মপরিকল্পনা’ (Shared Work Plan) তৈরি করেছে।

কানাডা সফরে অজিত দোভাল
শেষ আপডেট: 9 February 2026 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খলিস্তান ইস্যুতে উত্তেজনার জেরে দুই দেশের সম্পর্কে (India Canada relations) যে বরফ জমেছিল, তা ধীরে ধীরে গলতে শুরু করেছে। নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও কানাডার মধ্যে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি চলছিল, তার মাঝেই নতুন করে সম্পর্ক মেরামতের পথে হাঁটল দুই দেশ। সদ্য অটোয়ায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল (National Security Advisor Ajit Doval) এবং কানাডার নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাথালি ড্রুইনের বৈঠকে (Ajit Doval meeting) দুই পক্ষই নিরাপত্তা সহযোগিতা (national security cooperation) বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।
বৈঠকে ভারত ও কানাডা (India-Canada Meeting) ঘোষণা করেছে যে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার জন্য তারা একটি ‘অভিন্ন কর্মপরিকল্পনা’ (Shared Work Plan) তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে মাদক চোরাচালান, আন্তঃদেশীয় অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য পারস্পরিক উদ্বেগের নানা ইস্যুতে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। এজন্য নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগের বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছে। এই অফিসাররা দুই দেশের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান নিশ্চিত করবেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অজিত দোভালের (Ajit Doval Canada Tour) এই সফর ছিল নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনার একটি অংশ। আলোচনা চলাকালীন দুই পক্ষই স্বীকার করেছে যে তাদের লক্ষ্য, উভয় দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী ইস্যুতে সমন্বিত কাজের জন্য এই নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ফেন্টানিল-সহ বিপজ্জনক মাদকদ্রব্যের অবৈধ পাচার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক ঠেকাতে এই সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার ভিত্তি তৈরির বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সাইবার নিরাপত্তা নীতি ও তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা শুরু করতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। প্রতারণা, অভিবাসন আইন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার মতো ইস্যুতে আলোচনাও চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে ভারত ও কানাডা। এদিন দোভাল কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারির সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড (Khalistani separatist Hardeep Singh Nijjar Case) নিয়ে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর (Ex Canada PM Justin Trudeau) অভিযোগের পর দুই দেশের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে তিক্ত হয়ে পড়ে। ভারত এই অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলেছিল। দু’দেশ একে অপরের কূটনীতিকদের বহিষ্কারও করে। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নীরব যোগাযোগ শুরু হয়, যা থেকে ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যায়।
নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পরই দুই দেশ আবারও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় জোর দিতে শুরু করেছে। দোভালের এই সফর সেই প্রচেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হয়ে উঠল বলেই মনে করছে কূটনীতিক মহল।