সমাজের ভূমিকার উপর জোর দিয়ে ভাগবত বলেন, দেশের শক্তি শুধু শাসনব্যবস্থায় নয়, সমাজ কতটা সচেতন ও মূল্যবোধে দৃঢ়, তার উপরই নির্ভর করে ভারতের ভবিষ্যৎ।

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত
শেষ আপডেট: 8 February 2026 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ে (Marriage) কেবল ব্যক্তিগত সম্মতির বিষয় নয়, সামাজিক দায়ও। ‘তিন সন্তান’ তত্ত্ব তুলে ধরে এমনই মন্তব্য আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (RSS Chief Mohan Bhagwat)। রোববার এক বিস্তৃত আলোচনাসভায় তিনি জনসংখ্যা, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংঘের সম্পর্ক— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সমাজের ভূমিকার উপর জোর দিয়ে ভাগবত বলেন, দেশের শক্তি শুধু শাসনব্যবস্থায় নয়, সমাজ কতটা সচেতন ও মূল্যবোধে দৃঢ়, তার উপরই নির্ভর করে ভারতের ভবিষ্যৎ।
জনসংখ্যা ও ‘তিন সন্তান’ ভাবনা
জনসংখ্যা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সমাজের ভারসাম্য ও সুস্থতা বজায় রাখতে তিন সন্তানবিশিষ্ট পরিবার ধারণা অতীতে স্বীকৃত ছিল। যদিও বর্তমান জনসংখ্যা-চাপের বাস্তবতাও তিনি স্বীকার করেন।
আরএসএস প্রধানের কথায়, “সমাজের প্রতি দায়িত্ব নিতে হবে। বিয়ে শুধু শারীরিক সম্মতির বিষয় নয়, সামাজিক দায়িত্বও।” জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পিছনে তিনি তিনটি কারণের কথা বলেন, জন্মহার, ধর্মান্তর এবং অনুপ্রবেশ। অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রের ‘চোখ ও কান’ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে স্থানীয়দেরই পুলিশকে জানানো উচিত।
অর্থনীতি: জিডিপির বাইরে তাকানোর আহ্বান
অর্থনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুধু জিডিপিকে দেশের অগ্রগতির একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করেন ভাগবত। তাঁর যুক্তি, জিডিপি মূলত আমদানি-রফতানির হিসেব দেয়, কিন্তু গোটা অর্থনৈতিক ছবিটা তুলে ধরে না।
তিনি বলেন, “পরিমাণ আর গুণমান— দু’য়ের ভারসাম্য জরুরি।” তাঁর মতে, দৃশ্যমান বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতির অদৃশ্য দিকগুলিকে গুরুত্ব না দিলে প্রকৃত আর্থিক স্থিতি বা শক্তিশালী মুদ্রা সম্ভব নয়।
শাসনব্যবস্থা ও ‘ব্যাক-সিট ড্রাইভিং’ বিতর্ক
বর্তমান সরকারের উপর আরএসএসের প্রভাব নিয়ে ওঠা অভিযোগও খারিজ করেন সংঘপ্রধান। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “সরকার যারা চালাচ্ছেন, তাঁরাই সরকার চালান। আমরা ব্যাক-সিট ড্রাইভিং করি না।” তবে একই সঙ্গে জানান, দেশ গঠনের প্রয়োজনে সরকার চাইলে সংঘ সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।
নিরাপত্তা ও বিশ্ব হিন্দু ঐক্য
সম্প্রতি দিল্লিতে বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে ভাগবত বলেন, শুধু গোয়েন্দা তথ্যই যথেষ্ট নয়, সমাজকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, “বিস্ফোরণের আগে ঘটনা ধরা পড়েছিল, কিন্তু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ আসে সামাজিক সচেতনতা থেকে।” ‘আমার কী’ মানসিকতা ঝেড়ে ফেলারও বার্তা দেন সংঘপ্রধান।
আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে বাংলাদেশে থাকা প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ হিন্দুর অবস্থার কথা উল্লেখ করেন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ হলে নিজেদের অধিকার রক্ষায় তাঁরা নিজেরাই লড়াই করতে সক্ষম হবেন, বাইরের শক্তির উপর নির্ভর না করেও।
সংঘ ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকার
বক্তৃতার শেষে আরএসএসের অভ্যন্তরীণ চরিত্র নিয়েও কথা বলেন মোহন ভাগবত। তিনি জানান, তফসিলি জাতি ও উপজাতি-সহ সব সম্প্রদায়ের জন্য সংঘ উন্মুক্ত এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান আপসহীন। অবসর প্রসঙ্গ টেনে ভাগবতের মন্তব্য, “অবসরের পরেও দেশের জন্য আমার কাজ থামবে না।”