প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সমুদ্রগামী জাহাজে সস্তা তেল এনে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মোটর ট্যাঙ্কারে স্থানান্তর করা হত। এভাবে পণ্যের উৎস গোপন রেখে উপকূলবর্তী দেশগুলির প্রাপ্য শুল্ক এড়ানো হতো - যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।

শেষ আপডেট: 8 February 2026 22:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের কাছে সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক তেল পাচার চক্রের (Oil smuggling near Mumbai) পর্দাফাঁস করল ভারতীয় কোস্ট গার্ড (Indian Coast Guard)। ৫–৬ ফেব্রুয়ারি সমুদ্র ও আকাশপথ মিলিয়ে সুচারুভাবে পরিকল্পিত অভিযানে তিনটি সন্দেহভাজন জাহাজ আটক করা হয়েছে বলে খবর সরকারি সূত্রের।
এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল এমন এক অবৈধ নেটওয়ার্ক (Oil smuggling) ফাঁস করা, যারা সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত তেল সমুদ্রমাঝে জাহাজ বদল করে কাস্টমস শুল্ক ও সামুদ্রিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে পাচার করছিল।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থায় ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)-এর মধ্যে সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়ে। তার ভিত্তিতে মুম্বই থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে তিনটি জাহাজকে চিহ্নিত ও আটক করা হয়। সন্দেহ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই জাহাজগুলি অবৈধ ‘শিপ-টু-শিপ’ তেল স্থানান্তরে জড়িত ছিল।
এক ভারতীয় কোস্ট গার্ড আধিকারিক বলেন, “ডিজিটাল নজরদারি ও ডেটা-প্যাটার্ন বিশ্লেষণে সমুদ্রে জাহাজগুলির অস্বাভাবিক চলাচল ও একত্র হওয়া ধরা পড়ে। সেই ইনপুটের ভিত্তিতে দ্রুত কোস্ট গার্ডের জাহাজ ও বিমান মোতায়েন করা হয়।”
৫ ফেব্রুয়ারি বিশেষজ্ঞ বোর্ডিং টিম জাহাজগুলিতে উঠে দীর্ঘ তল্লাশি চালায়। জাহাজে পাওয়া ইলেকট্রনিক তথ্য, নথিপত্র যাচাই এবং নাবিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোটা পাচারচক্রের কার্যপদ্ধতি স্পষ্ট হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।
আধিকারিকরা নিশ্চিত করেছেন, একাধিক দেশের ‘হ্যান্ডলার’-দের জড়িত রেখে এই পাচারচক্র সমন্বিত ভাবে কাজ করছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সমুদ্রগামী জাহাজে সস্তা তেল এনে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মোটর ট্যাঙ্কারে স্থানান্তর করা হত। এভাবে পণ্যের উৎস গোপন রেখে উপকূলবর্তী দেশগুলির প্রাপ্য শুল্ক এড়ানো হতো - যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।
এক আধিকারিকের কথায়, “এটি অত্যন্ত সুচিন্তিত ও প্রযুক্তি-নির্ভর কার্যপদ্ধতি, যার পিছনে ছিল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।”
আরও জানা গিয়েছে, ধরা পড়া জাহাজগুলি নিয়মিত নিজেদের নাম, পতাকা এবং ডিজিটাল পরিচয় বদলাত, যাতে সামুদ্রিক আইনরক্ষাকারী সংস্থার নজর এড়ানো যায়। জাহাজগুলির মালিকানার সূত্রও বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ, ফলে মামলায় আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ হয়েছে।
প্রমাণ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনটি জাহাজই আটক করা হয়েছে। সেগুলিকে মুম্বই বন্দরের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে, যেখানে ভারতীয় কাস্টমস ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য।
আধিকারিকদের মতে, আন্তঃদেশীয় সামুদ্রিক অপরাধ রুখতে এই অভিযান একটি বড় সাফল্য।
ICG-র এক মুখপাত্র বলেন, “প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং সমুদ্রে ধারাবাহিক উপস্থিতি কাজে লাগিয়ে জটিল হুমকি মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা এই অভিযানে স্পষ্ট হয়েছে।”
এই অভিযান ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘নেট সিকিউরিটি প্রোভাইডার’ হিসেবে ভারতের ভূমিকা আরও জোরালো করল এবং সমুদ্রসীমায় নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল বলেও মত আধিকারিকদের।