শনিবার পাক সেনা জানায়, হামলার সঙ্গে যুক্ত চার জন ‘সহযোগী’ (facilitators) গ্রেফতার হয়েছে। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে হামলার নেপথ্যের আফগান আইএসআইএস (ISIS) মাস্টারমাইন্ডকেও।
.jpeg.webp)
শনিবার রাজধানীতে (Islamabad) হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন নিহতদের শেষকৃত্যে (funeral)। গোটা শহর জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
শেষ আপডেট: 7 February 2026 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামাবাদের ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার (Islamabad bombing) তদন্তে ‘বড় সাফল্যের’ দাবি করল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী (Pakistan military)। শনিবার পাক সেনা জানায়, হামলার সঙ্গে যুক্ত চার জন ‘সহযোগী’ (facilitators) গ্রেফতার হয়েছে। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে হামলার নেপথ্যের আফগান আইএসআইএস (ISIS) মাস্টারমাইন্ডকেও। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে, আর সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপ (cross-border attacks) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবারের হামলায় (suicide attack) কমপক্ষে ৩২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং আহত হন ১৭০ জনের বেশি। শনিবার রাজধানীতে (Islamabad) হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন নিহতদের শেষকৃত্যে (funeral)। গোটা শহর জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ত্রিলাই কালান (Trilai Kalan) এলাকায় খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে (Khadija Tul Kubra mosque) হামলার তদন্তে গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সূত্র (technical and human intelligence) ব্যবহার করে পেশোয়ার (Peshawar) ও নওশেরা (Nowshera)-তে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই চার জন সহযোগী ও হামলার মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অভিযোগ, হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও ‘মগজধোলাই’ (indoctrination) সবই হয়েছে আফগানিস্তানে (Afghanistan)। তাদের দাবি, আফগান তালিবানের (Afghan Taliban) প্রশ্রয়ে জঙ্গি সংগঠনগুলি এখনও পাকিস্তানের ও আন্তর্জাতিক শান্তির (regional and global peace) জন্য বড়সড় আতঙ্কের কারণ।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, অভিযুক্ত আত্মঘাতী জঙ্গির (suicide bomber) আস্তানায় হানা দিয়ে দুই ভাই ও এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইএসআইএল (ISIL) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এটি ২০০৮ সালের পর ইসলামাবাদের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। তখন ম্যারিয়ট হোটেলে (Marriott Hotel) ট্রাক বোমা বিস্ফোরণে ৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। সাধারণত কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা রাজধানীতে বোমা হামলা বিরল হলেও, গত তিন মাসে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যা বড় শহরগুলিতে (urban centres) নতুন করে সন্ত্রাসের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি স্পষ্টতই একটি নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতা (security lapse)। কারণ বালুচিস্তান (Balochistan) ও খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa)-তে গোয়েন্দা অভিযান চলছিল, তবু হামলা আটকানো যায়নি। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের একটি দরগায় হামলায় ৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। শুধু পাকিস্তান নয়, মস্কো (Moscow) ও ইরানের কেরমানশাহ (Kermanshah)-তেও আইএসআইএস হামলা চালিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) বলেন, এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি এক্স-এ (X) লেখেন, দেশ সন্ত্রাসের (terrorism) বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি (Asif Ali Zardari) বলেন, বিশ্বজুড়ে সমবেদনা ও সংহতির বার্তা পাকিস্তানকে শান্তি ও ঐক্যের পথে আরও দৃঢ় করেছে।