আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণাঙ্গ বারাক ওবামা (Barak Obama) ও তাঁর পত্নী মিশেল ওবামাকে বনমানুষের রূপে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওকে ঘিরে মার্কিন মুলুকে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
.jpeg.webp)
কিছু ফাইল ছবির সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি করা।
শেষ আপডেট: 7 February 2026 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণাঙ্গ বারাক ওবামা (Barak Obama) ও তাঁর পত্নী মিশেল ওবামাকে বনমানুষের রূপে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওকে ঘিরে মার্কিন মুলুকে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিশেষ কারণ হল, বর্তমান রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। কিন্তু, এ ব্যাপারে অনড় রয়েছেন দাম্ভিক ট্রাম্প। ভিডিওটি পরে মুছে ফেলা হলেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেছেন তিনি। কৃষ্ণাঙ্গ ওবামাদের (Obama) নিয়ে বর্ণবিদ্বেষী (Racist) ভিডিও পোস্ট করার জন্য সাফাই দিতেও পিছপা হননি ট্রাম্প। সমালোচনার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) ভিডিওটির নিন্দা করলেও সাফাই গেয়ে বলেছেন, ভিডিওটি তিনি পুরোটা দেখেননি। প্রথম দিকটা দেখেছেন। তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) বৃহস্পতিবার রাতে পোস্ট হওয়া এক মিনিটের ভিডিওটিতে ২০২০ সালের নির্বাচন (2020 US Election) নিয়ে জালিয়াতির (Election Fraud) অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ভিডিওর শেষ অংশে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি (AI-generated) ক্লিপে বানরের শরীরের উপর বারাক ওবামা (Barack Obama) ও মিশেল ওবামা (Michelle Obama)-র মুখ বসানো ছিল। এই অংশটিকেই বর্ণবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকেরা।
শুক্রবার প্রথমে হোয়াইট হাউস (White House) ভিডিওটির পক্ষেই সওয়াল করে। পরে ব্যাপক বিতর্কের মুখে ১২ ঘণ্টা পর সেটি মুছে ফেলা হয়। শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি পুরো ভিডিওটি দেখেননি। তাঁর দাবি, প্রথম অংশে ভোটিং মেশিনে কারচুপির কথা ছিল, তাই সেটি তিনি দেখতে দিয়েছিলেন কর্মীদের। কিন্তু শেষের অংশটি কেউ খেয়াল করেনি। তিনি বলেন, আমি পুরোটা দেখিনি। প্রথম অংশটা দেখে মনে হয়েছিল এটা ভোট জালিয়াতি নিয়ে। তারপর আমি লোকজনকে দিয়েছিলাম। সাধারণত ওরাই পুরোটা দেখে। কিন্তু মনে হচ্ছে কেউ ভুল করেছে। ভিডিওটির বর্ণবিদ্বেষী অংশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, অবশ্যই আমি এটাকে নিন্দা করি। তবে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কোনও ভুল করিনি। আমি তো হাজার হাজার জিনিস দেখি।
হোয়াইট হাউসের ভেতরেও দিনভর বিভ্রান্তিকর বার্তা উঠে আসে। প্রথমে প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট (Karoline Leavitt) ভিডিওটিকে নিরীহ ইন্টারনেট মিম (Internet Meme) বলে দাবি করেন এবং সমালোচনাকে ‘ভুয়ো ক্ষোভ’ (Fake Outrage) বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ভিডিওতে ট্রাম্পকে জঙ্গলের রাজা (King of the Jungle) হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটদের (Democrats) লায়ন কিং (Lion King) সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
কিন্তু চাপ বাড়তেই এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা জানান, ভিডিওটি ভুলবশত পোস্ট হয়েছিল এবং সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক ট্রাম্প উপদেষ্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার আগে দেখেননি এবং পরে বিষয়টি জানার পরই তা মুছে ফেলতে নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আগেও বহুবার বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ওবামার জন্মস্থান (Birth Conspiracy) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা প্রচার করেছিলেন তিনি।
এই ভিডিও নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির (Republican Party) মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সেনেটর টিম স্কট (Tim Scott) এক্স-এ লেখেন, আশা করছি এটা ভুয়ো। কারণ হোয়াইট হাউস থেকে বেরোনো সবচেয়ে বর্ণবিদ্বেষী জিনিস এটা। প্রেসিডেন্টের উচিত এটা সরিয়ে দেওয়া। অন্যান্য রিপাবলিকান সাংসদেরাও ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে ও পোস্ট মুছে ফেলতে বলেন। কয়েকজন গোপনে হোয়াইট হাউসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। ওবামা দম্পতির (Obama Family) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।