অভিযানে গিয়ে আধিকারিকরা দেখেন, সামান্য পরিমাণ আসল দুধের সঙ্গে ইউরিয়া ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত 'গুঁড়ো' মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল দুধের মতো দেখতে তরল, যা মানবদেহে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

শেষ আপডেট: 8 February 2026 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতে হদিস মিলল ভেজাল দুধের কারখানার (Gujarat fake milk factory)। গোপন সূত্র মারফত খবর পেয়ে তদন্তকারীরা ওই কারখানায় অভিযান চালান (FSSAI raid), যেখানে প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি হচ্ছিল (‘সিন্থেটিক দুধ’ Synthetic milk)। অভিযোগ ছিল, আশপাশের শহর ও গ্রামে ওই ভেজাল দুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
কারখানাটি ছিল গুজরাতের সাবরকাঁঠা জেলায়। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৮ ফেব্রুয়ারি, ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) ওই ইউনিটে হানা দেয়। অভিযানে গিয়ে আধিকারিকরা দেখেন, সামান্য পরিমাণ আসল দুধের সঙ্গে ইউরিয়া ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত 'গুঁড়ো' মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল দুধের মতো দেখতে তরল (Urea detergent mixed fake milk), যা মানবদেহে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
FSSAI-র এক্স (X) পোস্টে শেয়ার করা ভিডিও অনুযায়ী, অভিযানের সময়ই ১,৩৭০ লিটার ভেজাল দুধ নষ্ট করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, সন্দেহজনক দুগ্ধজাত পণ্য দেখলে সতর্ক থাকার এবং অভিযোগ জানানোর আবেদন জানানো হয়েছে ভোক্তাদের কাছে।
#Gujarat A major joint raid in Himatnagar, Gujarat, has shut down a dairy unit producing milk from Urea and Palm Oil. The raid was conducted by Food Safety Dept. Gujarat. Investigation into the supply chain is underway. #FSSAIAction #FSSAIinStates #FSSAIAction pic.twitter.com/YIIFaHn1jT
— FSSAI (@fssaiindia) February 8, 2026
কীভাবে বানানো হত নকল দুধ?
টাইমস অফ ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, আসল দুধের রং, ঘনত্ব ও প্রোটিনের মাত্রা নকল করতে একাধিক পদার্থ মেশানো হত। তার মধ্যে ছিল,
তদন্তকারীদের দাবি, মাত্র প্রায় ৩০০ লিটার আসল দুধ ব্যবহার করে প্রতিদিন ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ লিটার পর্যন্ত নকল দুধ তৈরি করা হত। এই মিশ্রণ পরে পাউচে ভরে দুধ ও বাটারমিল্ক হিসেবে সাবরকাঁঠা ও মেহসানা জেলায় সরবরাহ করা হত।
অভিযানে কী উদ্ধার হল?
স্থানীয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা প্রান্তিজের সলল গ্রামের কাছে ‘শ্রী সত্য ডেয়ারি প্রোডাক্টস’ নামে ওই কারখানায় যৌথ অভিযান চালান। CNBC TV18 সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখান থেকে উদ্ধার হয়—
কারখানাটি সঙ্গে সঙ্গেই সিল করে দেওয়া হয়। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে, যাতে ভেজালের পরিমাণ ও প্রকৃতি বিস্তারিতভাবে জানা যায়।