জানা গিয়েছে, কোথাও চিনি ও জলের সঙ্গে ক্ষতিকর রং ও ফ্লেভার মিশিয়ে গুড় তৈরি করা হচ্ছে, যাতে খেজুর গুড়ের মতো দেখতে ও গন্ধে আকর্ষণীয় হয়। কোথাও আবার অল্প খেজুর রসের সঙ্গে নানা ভেজাল মেশানো হচ্ছে। অথচ সেগুলি খাঁটি খেজুর গুড় বলে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 10 January 2026 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীত এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠে-পায়েসের ধুম। আর সেই পিঠের প্রাণ খেজুর গুড়। কিন্তু সেই মিঠে স্বাদের আড়ালেই লাুকিয়ে ভয়ঙ্কর বিপদ! এমনই অভিযোগ উঠছে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া-সহ একাধিক জেলায়। লোভনীয় রং ও গন্ধ আনতে খেজুর গুড়ে ক্ষতিকর রং ও কৃত্রিম ফ্লেভার মেশানো হচ্ছে বলে দাবি। কোথাও আবার খেজুরের রস ছাড়াই চিনি ও জল দিয়ে তৈরি হচ্ছে তথাকথিত ‘খেজুর গুড়’।
অভিযোগ পেয়ে মাড়গ্রাম-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায় খাদ্যসুরক্ষা দফতর (Food Department)। এ ব্যাপারে রামপুরহাটের ডেপুটি সিএমওএইচ-২ প্রকাশকুমার রায় জানান, চারটি পৃথক জায়গা থেকে খেজুর গুড়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। রিপোর্ট হাতে পেলেই আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি।
রামপুরহাট, নলহাটি, মাড়গ্রাম, মল্লারপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় শীতের শুরুতেই মুর্শিদাবাদ, নদিয়া-সহ নানা জেলা থেকে শিউলিরা এসে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন। সেই গুড়ই বাজারে আসে। শীতের মরশুমে খেজুর গুড়ের চাহিদা বিপুল। সেই চাহিদা মেটাতেই অনেক জায়গায় নকল গুড় তৈরির অভিযোগ সামনে আসছে।
জানা গিয়েছে, কোথাও চিনি ও জলের সঙ্গে ক্ষতিকর রং ও ফ্লেভার মিশিয়ে গুড় তৈরি করা হচ্ছে, যাতে খেজুর গুড়ের মতো দেখতে ও গন্ধে আকর্ষণীয় হয়। কোথাও আবার অল্প খেজুর রসের সঙ্গে নানা ভেজাল মেশানো হচ্ছে। অথচ সেগুলি খাঁটি খেজুর গুড় বলে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। দোকানে দোকানে রমরমিয়ে বিক্রি হওয়া এই গুড় কিনে অনেকেই বাড়িতে পিঠেপুলি বানিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ, সেগুলির বড় অংশই নকল এবং বিষাক্ত। দীর্ঘদিন সেবনে শরীরে মারণরোগ বাসা বাঁধার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল ফিজিসিয়ান স্বরূপ সাহা জানান, নকল বা ভেজাল খাবার খেলে শরীরে রাসায়নিক বিষক্রিয়া হতে পারে। কেমিক্যাল মেশানো থাকলে পেটখারাপ, বমি, জ্বর, গ্যাস, এলার্জি, ডায়ারিয়া থেকে শুরু করে প্রাণহানিও হতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ, ডায়াবেটিস রোগী বা ক্যান্সার আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি। তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় সমস্যা দ্রুত বাড়তে পারে। কী কী রাসায়নিক মেশানো হয়েছে, তা পুরোপুরি ল্যাব পরীক্ষার পরই জানা যাবে। তবে ভেজাল গুড় হলে বিষয়টি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে মত তাঁর।
তাই পিঠের মরশুমে মিঠে স্বাদের আড়ালে যেন বিষ ঢুকে না পড়ে, সে দিকেই এখন প্রশাসনের নজর।