ইডির অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী আদৌ কিছু নিয়ে যেতে পারেন কি না, বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে শুক্রবার হাজরার প্রতিবাদ সভা থেকে জবাব দিলেন মমতা নিজেই।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডির তল্লাশির মাঝেই আইপ্যাক ( I-PAC ED Raid) কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা— সেই দৃশ্য ঘিরেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার ঝড়। ফাইলে কী ছিল, ইডির অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী আদৌ কিছু নিয়ে যেতে পারেন কি না, বিরোধীদের এহেন প্রশ্নের জবাব শুক্রবার হাজরার প্রতিবাদ সভা থেকে দিলেন মমতা নিজেই।
হাজরার মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “কাল যা করেছি, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে করেছি। কোনও অন্যায় করিনি। তুমি খুন করতে এসেছিলে। চোরের মতো আমার সমস্ত ডেটা চুরি করতে এসেছিলে। জোড়াফুলটা যদি রক্ষা না হয়, মানুষের হয়ে লড়াই করব কী করে?”
এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণে সুর চড়িয়ে দলের নেতা, কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "অনেক সহ্য করেছি। আর নয়। পাড়ায় পাড়ায় বিজেপির মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে দিন। মা, বোনেদের আঘাত করলে ভাইয়েরা বুঝে নেবে।"
একই সঙ্গে এসআইআর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “মানুষের কৈফিয়ত চাইবার আগে আপনারা কেন পদ্মত্যাগ করবেন না?”
নাম না করে নির্বাচন কমিশনকেও (Election Commission) আক্রমণ করেন তিনি। ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র মন্তব্য, “ভ্যানিশ কুমার ভোট ভ্যানিশ করার কে? আপনি কি ম্যাজিসিয়ান? নাগরিকের অধিকার কেড়ে বিজেপিকে জেতানোর চেষ্টা করলে আমরাও তোমার অধিকার কেড়ে নেব।”
মমতা ফের অভিযোগ তোলেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে বিজেপি ইডিকে ব্যবহার করে তৃণমূলের ‘ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি’ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই কারণেই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এ প্রসঙ্গে দিল্লির ঘটনার কথাও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “দিল্লিতে আমাদের সাংসদরা বিক্ষোভ দেখাতে গেলে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যায়, আর এখানে লাল কার্পেট বিছিয়ে মিটিং করায়। কোর্ট থেকে পারমিশন নিয়ে এসে মিটিং করেন।”
প্রতিবাদ মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন মমতা। “বুঝতেই পারলাম না কখন সাড়ে ১০ কিলোমিটার হেঁটে ফেললাম। এই হাজরাতেই সেদিন মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। গতকাল মনে হচ্ছিল, আবার নতুন করে জন্মালাম।” নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও বলেন তিনি— মাথায় আঘাতের পর ভোর ৪টের আগে ঘুমোতে পারেন না বলেও জানান।
কমিশনের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “৯০ বছরের বৃদ্ধাকে ডেকে পাঠাচ্ছো। নাকে নল, তিন তলায় ওঠাচ্ছো, লজ্জা করে না?” কটাক্ষের সুরে যোগ করেন, “গান্ধীজি থেকে সবাই বাদ, আর ভোটের সময় জিন্দাবাদ!”
সবচেয়ে চড়া হুঁশিয়ারি আসে বক্তব্যের শেষ ভাগে। মুখ্যমন্ত্রীর গর্জন, “তুমি আমাকে এক দিন আটকাবে, আমি ১০০ দিনের ফসল তুলে নেব। আমাকে জেলে ভরলে তোমাকে সারা পৃথিবীতে ভরে দেব। মনে রাখবে, সুস্থ বাঘের চেয়ে আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর।”
জিএসটি নিয়েও সরব হন মমতা। কেন্দ্রের উদ্দেশে তাঁর দাবি, “আমার ভাগের টাকা আমাকে দাও। চার বছর ধরে বাংলার উন্নয়নের টাকা আটকে রেখেছ। লজ্জা করে না?” আসন্ন বিধানসভা ভোটে মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।