আই-প্যাকের দফতর থেকে ফাইল সরানো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ শমীক ভট্টাচার্যের। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তি তিনি নিজেই নষ্ট করলেন।

শমীক-ইডি
শেষ আপডেট: 8 January 2026 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি নিয়ে উত্তাল বাংলার রাজ্য-রাজনীতি। তল্লাশি অভিযান শুরুর খবর পেয়েই জৈনের বাড়ি পৌঁছন মমতা। সূত্রের দাবি, সেখান থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও হার্ড ডিস্ক নিয়ে বেরিয়ে যান। তল্লাশি চলাকালীন তাঁর সেখানে উপস্থিতি নিয়ে উঠতে শুরু করে প্রশ্ন।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন সল্টলেকে আই-প্যাকের অফিসে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ থাকেন এবং দেখা যায় একটি সাদা স্করপিও গাড়িতে বিভিন্ন নথি লোড করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, ওই সব ফাইল ও কাগজ নিয়ে বেরিয়ে যান মমতা। এই ঘটনারই ধিক্কার জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অতীতে কোনও মুখ্যমন্ত্রী এমন কাজ করেছেন কি না সেনিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) দুর্নীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
ইডি-র তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে আখ্যা দেন শমীক। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী নিজের সাংবিধানিক পদের প্রভাব খাটিয়ে প্রয়োজনীয় নথি কেড়ে নিয়েছেন, যা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।'
তদন্তকারী সংস্থা কেন মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে নথি ছিনিয়ে নেয়নি—এই প্রশ্ন উঠতেই শমীকের ব্যাখ্যা, একজন মুখ্যমন্ত্রী ও একজন মহিলার হাত থেকে বলপ্রয়োগ করে নথি কেড়ে নেওয়ার দৃশ্য গণতন্ত্রে শোভন নয়। তবে তা সত্ত্বেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, মমতার এই আচরণ সম্পূর্ণ অনুচিৎ। একই সঙ্গে জানান, বিজেপি (BJP) কোনও ভাবেই ইডি-র মুখপাত্র নয়। কিন্তু তাঁদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে স্পষ্ট, আইন মেনেই প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর তল্লাশি শুরু হয়েছিল। সেই তদন্তেই বাধা দেওয়া হয়।
এটা কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কাঙ্খিত নয় বলে মনে করেন শমীক। বুক ঠুকে বলেন, 'রাজনীতিকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে বিজেপি কোনও নির্বাচনে অংশ নেয়নি।' এর আগেও অনেক অফিসে ইডি, সিবিআই গেছে, রেড করেছে কিন্তু একটি বিশেষ অপরাধের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন, সেই তদন্তপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এরাজ্যে অধিকাংশ তদন্ত চলছে আদালতের নির্দেশে। তার মাঝে আদালত অবমাননা, সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ, আধিকারিকদের ওপর আক্রমণ, তাদের কাছ থেকে কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া, অপরাধীদের আড়াল করা, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, দলকে সরানোর চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, যোগ করেন বিজেপি নেতা।
শেষে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এভাবে আক্রমণের নিন্দা জানান। ঘটনাকে 'নজিরবিহীন' বলে উল্লেখ করে তাঁর মত, 'গোটা দেশ এটা আজ দেখল। আর এনিয়ে ওঁর এমন কাজ ৩ বার। আগে রাজীব কুমারের সময় করেছিলেন, ধরনায় বসেছিলেন। তারপর ফিরহাদের ক্ষেত্রে অবস্থান করেছিলেন। সেটা তবুও হয়তো প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল কিন্তু এবার একেবারে একটা অফিসে ঢুকে গিয়ে তাকে দলীয় কার্যালয় বানিয়ে ফেললেন, তাহলে তৃণমূল মানে কী!'
ফৌজদারি তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় এমন অনধিকার হস্তক্ষেপ কোনও সুস্থ সমাজ মেনে নিতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণে পশ্চিমবঙ্গের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে, আর তার বিচার করবে রাজ্যের মানুষই করবেন বলে জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। পাশাপাশি মনে করেন, মমতা নিজের ভাবমূর্তির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতলেন আজ নিজেই।