বিজেপির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপের প্রবণতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে নতুন নয়। দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং টানা ১৪ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরেও তিনি কীভাবে এমন আচরণ করতে পারেন, সেই প্রশ্নও তোলেন রবিশঙ্কর প্রসাদ।

রবিশঙ্কর প্রসাদ, লালু প্রসাদ যাদব এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 January 2026 14:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় আইপ্যাকের দফতর (Kolkata Ipac Office) ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Ipac Prateek Jain) বাড়িতে ইডি অভিযানের (ED Raid at Ipac Office) ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতির উত্তাপ ছাড়িয়ে বিতর্ক এবার জাতীয় মঞ্চে। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সরাসরি নিশানা করল বিজেপি (BJP)। কেন্দ্রীয় তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে মমতার সঙ্গে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের (Lalu Prasad Yadav) তুলনা টানলেন দলের শীর্ষ নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ (Ravi Shankar Prasad)।
বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের প্রশ্ন, “যদি কয়লা পাচার মামলার (Coal Smuggle Case) তদন্তে ইডি অভিযান হয়ে থাকে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী এতটা আতঙ্কিত কেন? তিনি কি রাজ্যে কোনও সঠিক তদন্ত হতে দেবেন না?” তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এমন দৃশ্য আগে দেখা যায়নি।
রবিশঙ্করের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ অনৈতিক, বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। তাঁর মতে, এ ধরনের কাজ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। এই প্রসঙ্গেই তিনি লালু প্রসাদ যাদবের (Lalu Prasad Yadav) উদাহরণ টানেন। বলেন, “বিহারে লালু প্রসাদের বাড়িতে তল্লাশি হয়েছিল, পরে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। কিন্তু তিনি বা তাঁর স্ত্রী কখনও তদন্ত চলাকালীন সিবিআই অফিসে (CBI) ঢুকে পড়েননি।”
বিজেপির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপের প্রবণতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে নতুন নয়। দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং টানা ১৪ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরেও তিনি কীভাবে এমন আচরণ করতে পারেন, সেই প্রশ্নও তোলেন রবিশঙ্কর প্রসাদ।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত (Coal Smuggle Case) একটি পুরনো মামলার সূত্রে ইডি হানা দেয় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে। একই সময়ে আর একটি ইডি দল পৌঁছয় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে সংস্থার অফিসে। আইপ্যাক দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকৌশল নির্ধারণে যুক্ত একটি সংস্থা।
অভিযানের খবর পেয়ে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং পরে সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ইডির অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীনই তিনি ভিতর থেকে একাধিক ফাইল, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ল্যাপটপ বের করে নিয়ে যান। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা তৃণমূলের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত তথ্য বেআইনিভাবে বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছিল।
এই ঘটনার পর তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ফের কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। একই সঙ্গে তৃণমূলের তরফেও পাল্টা মামলা দায়ের হয়েছে। গোটা বিষয়টি এখন বিচারাধীন।