প্রশ্ন উঠছে—চিকিৎসকদের প্র্যাকটিসের অধিকার তো কেড়ে নেয়নি রাজ্য। তাহলে কেন এই ‘রিজেকশন অব এনওসি’?

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 September 2025 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি চিকিৎসকদের ( Government Hospital Doctors) প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী দফতরের ছাড়পত্র (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা NOC) ছাড়া কেউই ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখাতে পারবেন না। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে বহু দিন ধরেই দেখা গিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্তাদের নীরব সমর্থনে এনওসি ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলেছে প্রাইভেট প্র্যাকটিস। ফলে ‘বাধ্যতামূলক’ নিয়ম হয়ে উঠেছিল কার্যত ‘অপশনাল’।
কিন্তু আরজি কর আন্দোলনের পরে পরিস্থিতি বদলেছে। চাপে পড়া সরকার এবার নরমপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে কঠোর হয়েছে (Health Department)। প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতির আবেদনে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে একসঙ্গে ৭৩ জন সরকারি চিকিৎসকের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন (Canceled 73 Private practice applications of Doctors)। ১ সেপ্টেম্বর টানা দু’টি নির্দেশিকায় এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে রাজ্য।
তালিকায় রয়েছেন জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার এবং একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, ইএনটি, চোখ, ত্বক, অ্যানাসথেসিওলজি, অর্থোপেডিকস, প্যাথোলজির ডাক্তাররাও বাদ যাননি। বাঁকুড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, দুই বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, বীরভূম, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও দার্জিলিং—প্রায় গোটা রাজ্যের ডাক্তাররা এই খারিজের তালিকায়।
প্রশ্ন উঠছে—চিকিৎসকদের প্র্যাকটিসের অধিকার তো কেড়ে নেয়নি রাজ্য। তাহলে কেন এই ‘রিজেকশন অব এনওসি’?
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের ব্যাখ্যা, আসলে বাম আমলের একটি নিয়মের জেরেই এমন সিদ্ধান্ত। ১৯৯৩ সালের ৩ মার্চ প্রকাশিত ক্যালকাটা গেজেটের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ছাড়পত্র চাইতে হবে চাকরিতে যোগ, প্রমোশন বা বদলির সময়। অথচ এই ৭৩ জন সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন। কেউ ২ বছর পরে, কেউ আবার ১০-১২ বছর পর এনওসির জন্য আবেদন করেছেন।
ফলে নিয়ম দেখিয়ে আবেদন খারিজ করেছে রাজ্য। এখন তাঁদের প্রমোশন বা নতুন বদলির সময়ই ফের এনওসি চাইতে হবে। চিকিৎসক মহলের একাংশ অবশ্য বলছেন, ‘‘প্রাইভেট প্র্যাকটিসই মূল আয়ের উৎস। নিয়ম থাকলেও এত দিন চোখ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। হঠাৎ কড়াকড়ি চাপিয়ে দেওয়া হলে সমস্যা বাড়বে হাসপাতালের কাজেও।’’
সব মিলিয়ে, এনওসি বিতর্কে রাজ্যের চিকিৎসক মহলে নয়া অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।