রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ সূত্রে খবর, এই প্রথম বাংলার এত উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে ডেঙ্গির অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে ধরা পড়ল। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জেরে পাহাড়ের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসছে। পাহাড়ে এখন আর কেবল ঠান্ডা নয়, উষ্ণতার ছোঁয়া।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 6 September 2025 09:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেঙ্গি (Dengue) কি শুধুই সমতলের ব্যাধি? এতদিন ধরে পাহাড়ি এলাকাকে নিয়ে প্রচলিত সেই ধারণা ভাঙল!
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে ৭ হাজার ফুট উচ্চতায় (7,000 feet) অবস্থিত দার্জিলিং (Darjeeling) জেলার ঘুম হিল স্টেশন পর্যন্ত মিলেছে ডেঙ্গি ভাইরাসের অন্যতম বাহক ইডিস অ্যালবোপিকটাস মশার লার্ভা (Mosquito larvae)।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ সূত্রে খবর, এই প্রথম বাংলার এত উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে ডেঙ্গির অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে ধরা পড়ল। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জেরে পাহাড়ের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসছে। পাহাড়ে এখন আর কেবল ঠান্ডা নয়, উষ্ণতার ছোঁয়া। কখনও কখনও চালাতে হচ্ছে ফ্যানও। ফলে সমতলের মতোই পাহাড়েও ডেঙ্গু মশার বাড়বাড়ন্তের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
শুধু ঘুম নয়, দার্জিলিং জেলার আরও কয়েকটি জনপ্রিয় হিল স্টেশনেও এ বছর মশার লার্ভা মিলেছে। জেলার অন্যতম উঁচু পর্যটনকেন্দ্র লাভা (৭২১৮ ফুট) এবং বাংলা-নেপাল সীমান্তের অফবিট ডেস্টিনেশন সুখিয়াপোখরিতেও (৭১৯৮ ফুট) মিলেছে ডেঙ্গি মশা। কালিম্পংয়ের মতো মাঝারি উচ্চতার পাহাড়ি শহরে আগেই লার্ভা ধরা পড়েছিল। এ বছরও সেখানে প্রচুর মশার জন্ম হয়েছে।
এখনই শুরু হতে চলেছে পিক ট্যুরিস্ট সিজন। লাখো পর্যটক পাহাড়মুখো হবেন। হোটেল-হোমস্টে-ট্রেকার্স হাট ভর্তি হবে। এক স্বাস্থ্যকর্তার আশঙ্কা, “দক্ষিণবঙ্গ বা কলকাতা থেকে অনেকে ডেঙ্গির ভাইরাস বয়ে নিয়ে পাহাড়ে যাবেন। সংক্রমণ রোখা না গেলে পরিস্থিতি খারাপ হতে সময় লাগবে না।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পাহাড়ি এলাকায় জলসংকট মোকাবিলায় বাড়িতে বা আবাসনে বড় পাত্রে জল জমিয়ে রাখার প্রবণতা আছে। সেখানেই লার্ভার জন্ম হচ্ছে। তাই পাত্রের মুখ কাপড় বা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। পর্যটকদের জন্যও বার্তা—অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে রিপেলেন্ট, ক্রিম বা কয়েল।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে কলাগাছ, ওল বা কচুগাছের পত্রকক্ষ, কিংবা বাঁশগাছের গোড়ায় জমা জলও ডেঙ্গির অন্যতম আঁতুড়ঘর। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হেঁসো দিয়ে গাছের পত্রকক্ষ ফুঁটো করে জল বের করতে হবে, বাঁশগাছের গোড়া চিরে দিতে হবে।
এ বছর রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজারের কাছাকাছি। সংক্রমণের নিরিখে শীর্ষে মুর্শিদাবাদ (১০৯৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৯৬৮) এবং হুগলি (৫১৮)। পাহাড়েও সংক্রমণের হানা এবার চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।