স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ‘‘প্রায়ই ঝগড়া হতো, কিন্তু এমন পরিণতি কল্পনাও করিনি।’’ পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, কী কারণে এই চরম পদক্ষেপ করলেন গৌরাঙ্গ।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 6 September 2025 07:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পারিবারিক অশান্তি শেষ পর্যন্ত রূপ নিল রক্তাক্ত ট্র্যাজেডিতে। স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হলেন গৌরাঙ্গ আচার্য ওরফে বাবু। ঘটনায় স্তম্ভিত উত্তর দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতাপগড় প্রাথমিক স্কুল সংলগ্ন আবাসনের বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌরাঙ্গ আচার্যের বয়স প্রায় ৬০। স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে কাজ করতেন তিনি। পাশাপাশি পাড়ার মন্দিরে পুরোহিতের কাজ ও গৃহশিক্ষকতাও করতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। শুক্রবার সকাল থেকে সেই অশান্তি আরও তীব্র আকার নেয়।
বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ রুবির বাবা-মা তাঁদের মেয়ের খোঁজে বাড়িতে যান। দরজায় বারবার ডাকাডাকির পরেও কোনও সাড়া না পেয়ে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। আতঙ্কে ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ দম্পতি। দেখা যায়, মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন রুবি। ঘরের ভিতর ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় গৌরাঙ্গর দেহ। অন্য ঘর থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসে তাঁদের নাবালিকা মেয়ে তৃষা, যার মাথায় গভীর ক্ষতচিহ্ন।
প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে দ্রুত সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা গৌরাঙ্গকে মৃত ঘোষণা করেন। রুবি ও তৃষার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভারী কোনও বস্তু—সম্ভবত পাঁচ কেজি ওজনের বাটখারা—দিয়ে স্ত্রী ও মেয়েকে আঘাত করেন গৌরাঙ্গ। পরে আত্মঘাতী হন তিনি। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার জেরে এলাকায় শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ‘‘প্রায়ই ঝগড়া হতো, কিন্তু এমন পরিণতি কল্পনাও করিনি।’’ পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, কী কারণে এই চরম পদক্ষেপ করলেন গৌরাঙ্গ।