এসআইআর ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত আগেই। বুধবার মালদহের ফারাক্কার বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার একই ছবি ধরা পড়ে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায়।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 January 2026 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকুলিয়ার (Chakulia Incident) ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন ( Election Commission)। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশ ও প্রশাসনের উপর সংগঠিত হামলার অভিযোগে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO)-কে দ্রুত এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।
এসআইআর ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত আগেই। বুধবার মালদহের ফারাক্কার বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার একই ছবি ধরা পড়ে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায়।বিক্ষোভকারীদের সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। ইটের আঘাতে মাথা ফেটে যায় চাকুলিয়া থানার আইসির। অভিযোগ, শুধু পুলিশের উপর হামলাই নয়, বিডিও অফিসে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি তছনছও করা হয়। এর জেরে এসআইআর সংক্রান্ত জরুরি নথি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশন সূত্রে স্পষ্ট বার্তা, যেভাবে সংগঠিতভাবে পুলিশ প্রশাসনের উপর হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তা জানানো যেত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনও মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের উপর হামলার পাশাপাশি বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করা হয়। অভিযোগ, আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়া দমকলের ইঞ্জিনও আটকে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ঘটনায় জড়িতরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুনানির নামে বারবার সাধারণ মানুষকে বিডিও অফিসে ডেকে হয়রানির প্রতিবাদেই এ দিন সকাল থেকে চাকুলিয়ার কাহাটা এলাকায়, বিডিও অফিসের অদূরে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবরোধ তুলতে ইসলামপুর থানার পুলিশ পৌঁছতেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা মারমুখী হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে। তাতেই মাথা ফেটে যায় ইসলামপুর থানার আইসির।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতার সামনে কার্যত অসহায় অবস্থায় পড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এসআইআর ঘিরে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার জেরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কমিশনের কড়া নির্দেশের পর পরিস্থিতি কতটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা জেলা।