এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষ ও বিএলওদের হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বুধবার উত্তাল হয়ে ওঠে ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালানো হয়।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 14 January 2026 20:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ফারাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় (BDO office vandalized in Farakka) জঙ্গিপুর পুলিশ স্টেশনে এফআইআর দায়ের করলেন ফারাক্কার বিডিও। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এফআইআরে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বা তাঁর সঙ্গে থাকা কোনও তৃণমূল নেতার নাম না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা (MLA's name not in FIR raises questions about administration's impartiality)।
বিজেপির মুখ্য প্রবক্তা দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, “আমরা নিজের চোখেই দেখেছি কারা হামলা চালিয়েছে। বিডিও কি স্থানীয় বিধায়ককে চিনতে পারলেন না? না কি কোনও বাধ্যবাধকতার কারণেই নাম উল্লেখ করা হয়নি? এ থেকেই প্রশাসনের তথাকথিত নিরপেক্ষতা স্পষ্ট।”
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষ ও বিএলওদের হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বুধবার উত্তাল হয়ে ওঠে ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে।
এদিন বিডিও অফিস চত্বরে সমস্ত বিএলও একযোগে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। বিক্ষোভ চলাকালীনই তাঁরা ইআরও-র হাতে তাঁদের ইস্তফাপত্র তুলে দেন। বিএলওদের বক্তব্য, তাঁরা এসআইআর-এর বিরোধিতা করছেন না, আপত্তি রয়েছে এই প্রক্রিয়া কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে। অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে অ্যাপে আপলোড করার পরেও বারবার নতুন নথি চাওয়া হচ্ছে এবং একাধিকবার সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে ঘন ঘন ডাকা হচ্ছে, যা কার্যত হেনস্থার পরিস্থিতি তৈরি করছে।
বিএলওদের আরও অভিযোগ, গোটা প্রক্রিয়ার দায় তাঁদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও অনিশ্চয়তায় ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানসিক চাপ এতটাই বেড়েছে যে অনেক বিএলও প্রতিদিন সরকার প্রদত্ত অ্যাপ খুলতেই ভয় পাচ্ছেন বলে দাবি।
বিএলওদের আন্দোলনের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও বিডিও অফিস চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেন। গেট অবরুদ্ধ করে অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। সাময়িকভাবে হেয়ারিং-এর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও তাতেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ, বিধায়কের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকা কার্যত থমথমে হয়ে ওঠে। প্রশাসনিক ভূমিকা ও এফআইআর-এ বিধায়কের নাম না থাকা নিয়ে ফের চড়ছে রাজনীতির পারদ। তবে এ ব্যাপারে বিধায়ক বা বিডিও-র তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।