প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বিডিও অফিসে এসআইআর-এর যে বিশেষ ক্যাম্প করা হয়েছিল, সেখানেই প্রথমে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা ক্যাম্পে ঢুকে টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করেন।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 14 January 2026 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষ ও বিএলওদের হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার উত্তাল হয়ে উঠল ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বর (Vandalism at BDO office, Farakka)। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের (Trinamool MLA , Manirul Islam) উপস্থিতিতেই এই উত্তেজনা চরমে ওঠে। যদিও গোটা ঘটনায় বিধায়ক বা বিডিও-র তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিন ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বরে সমস্ত বিএলও একযোগে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। বিক্ষোভ চলাকালীনই তাঁরা তাঁদের ইস্তফাপত্র ইআরও-র হাতে তুলে দেন। বিএলওদের দাবি, তাঁরা এসআইআর-এর বিরোধিতা করছেন না, আপত্তি রয়েছে এসআইআর কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে। অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে অ্যাপে আপলোড করার পরেও বারবার নতুন নথি চাওয়া হচ্ছে এবং একাধিকবার সংশোধনের নির্দেশ আসছে। ফলে সাধারণ মানুষকে ঘন ঘন ডাকা হচ্ছে, যা হেনস্থার পরিস্থিতি তৈরি করছে।
বিএলওদের আরও অভিযোগ, এই গোটা প্রক্রিয়ার দায় তাঁদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। কাজের চাপ ও অনিশ্চয়তায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানসিক চাপ এতটাই বেড়েছে যে অনেক বিএলও প্রতিদিন সরকার প্রদত্ত অ্যাপ খুলতেই ভয় পাচ্ছেন বলে দাবি।
বিএলওদের আন্দোলনের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও বিডিও অফিস চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেন। গেট অবরুদ্ধ করে অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে হেয়ারিং-এর কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে তাতেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকা কার্যত থমথমে হয়ে ওঠে।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। দলের প্রবক্তা দেবজিৎ সরকার বলেন, “এটাই তৃণমূলের আসল রূপ। আইনের কোনও তোয়াক্কা নেই। একজন বিধায়কের উপস্থিতিতে সরকারি অফিসে ভাঙচুর, এর থেকে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে!”
ঘটনার জেরে ফরাক্কা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।