পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানান হয়েছে, নবান্ন চত্বরে বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা জারি থাকে। তাই সেখানে কোনও ভাবেই জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বিকল্প জায়গার কথাও বলেছেন তাঁরা।

সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশ
শেষ আপডেট: 8 August 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) এক বছর পার হবে শনিবার, ৯ অগস্ট। সেইদিনই নবান্ন অভিযানের (Nabanna Abhijan) ডাক দিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তৃণমূল ছাড়া সব রাজনৈতিক দল এবং আমজনতাকে এই অভিযানে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। তবে রাজ্য পুলিশ (State Govt Police) সাংবাদিক বৈঠক (Press Conference) করে জানিয়েছে, নবান্ন অভিযানের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলে তাঁরা বাধা দেবেন না। কিন্তু হিংসাত্মক প্রতিবাদ হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করা হয় রাজ্য পুলিশের তরফে। সেখানে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ (ADG South Bengal) সুপ্রতীম সরকার বলেন, কলকাতা হাইকোর্টে তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে প্রতিবাদ করা মৌলিক অধিকারের মধ্যে। তবে এও স্পষ্ট করা হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা হিংসা ছড়ানোর কোনও জায়গা নেই। সেই প্রেক্ষিতেই তিনি মনে করান, প্রতিবাদ করতে হলে সেটা করতে হবে আইন মেনে, শান্তিপূর্ণ ভাবে। কোনও রকম ক্ষতি না করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানান হয়েছে, নবান্ন চত্বরে বিএনএস-এর ১৬৩ ধারা জারি থাকে। তাই সেখানে কোনও ভাবেই জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বিকল্প জায়গার কথাও বলেছেন তাঁরা। বলা হয়েছে, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করেছে - সাঁতরাগাছি বাস স্ট্যান্ড। এদিকে, আর আর এভিনিউকে কলকাতা পুলিশ বিকল্প জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেখানে কর্মসূচি করলে প্রশাসনের কোনও অসুবিধা নেই।
'অভয়া মঞ্চ' শনিবারই কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছে। তবে পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা একেবারে স্পষ্ট করে জানান, এই অভিযান করা যাবে না। তবে তাদেরকেও প্রতিবাদের জন্য বিকল্প জায়গা বলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিশ্চিত করা হয়েছে, শনিবার পুলিশ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত থাকবে। যেখানে যেখানে থাকার দরকার সেখানে থাকবে।
ইতিমধ্যেই নবান্নমুখী একাধিক রাস্তায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওড়ার সাঁতরাগাছি, ফোরশোর রোডের বাঁশতলা মোড়, জিটি রোড লাগোয়া হাওড়া ময়দান - এইসব গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে লোহার বিম ঢালাই করে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ব্যারিকেডগুলিকে নাট-বল্টুর সাহায্যে শক্ত করে আটকে দেওয়া হচ্ছে যাতে কোনওভাবেই তা ভেঙে পেরনো সম্ভব না হয়।
এছাড়াও মল্লিক ফটক, কাজীপাড়া, ব্যতাই তলা সহ আরও বেশ কিছু জায়গায় বাঁশ ও লোহার তৈরি অতিরিক্ত ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা।
পাশাপাশি, সাঁতরাগাছিতে (Santragachi) তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম (Temporary Control Room)। লোহার কন্টেনারেই থাকবে পুলিশের এই বিশেষ নজরদারি ইউনিট।