ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষা শুধু কেন্দ্র বা রাজ্যের নয়, এটি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়। তাই এই প্রকল্পে গাফিলতি বা দেরি আদালত সহজভাবে নেবে না।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতার দেওয়ার কাজ নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্য (State faces Calcutta High Court questions over barbed wire work on Bangladesh border)। ইতিবাচক অগ্রগতির রিপোর্টের বদলে হাইকোর্টে আবারও সময় চেয়ে বসল নবান্ন। আর সেই কারণেই ক্ষোভ প্রকাশ করল আদালত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা বিষয়ে এই ঢিলেমি বরদাস্ত করা যায় না।
শুক্রবার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার অগ্রগতি নিয়ে হাইকোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ছিল। আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য যেন এই বিষয়ে ‘পজিটিভ রিপোর্ট’ জমা দেয়। কিন্তু আদালতের প্রত্যাশার উল্টো দিকে গিয়ে রাজ্যের আইনজীবী জানান, রিপোর্ট তৈরির জন্য আরও সময় প্রয়োজন। সঙ্গে সঙ্গে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ—“এত সিরিয়াস ইস্যুতে রাজ্য বারবার সময় চাইতে পারে না।”
তবে শেষ পর্যন্ত আদালত এক সপ্তাহের অতিরিক্ত সময় দিয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্যকে। বেঞ্চের সতর্কবার্তা, রিপোর্টে যদি কোনও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা না যায়, তাহলে শুরু হবে টানা শুনানি।
এদিন আদালতে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল নথি পেশ করেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার বিষয়ে আগেই অনুমোদন দিয়েছে। প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থও রাজ্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন। তবুও রাজ্য কোনও সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি বা কারণ জানাচ্ছে না বলে কেন্দ্রের অভিযোগ।
শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আদালতের পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করে তিনি সরাসরি রাজ্যকে কাঠগড়ায় তুললেন।
তাঁর কথায়, “সীমান্তে বেড়া দেওয়ার মতো জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে রাজ্য একের পর এক দিন সময় চেয়ে যাচ্ছে। এটা চলতে পারে না। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে রাজনীতি করা হচ্ছে।”
রাজ্য কেন বারবার সময় চাইছে, তা নিয়ে আদালতে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জমি অধিগ্রহণে স্থানীয় সমস্যা নাকি প্রশাসনিক জটিলতা—রাজ্যের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছুই জানানো হয়নি।
ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষা শুধু কেন্দ্র বা রাজ্যের নয়, এটি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়। তাই এই প্রকল্পে গাফিলতি বা দেরি আদালত সহজভাবে নেবে না।
আগামী সপ্তাহে রাজ্য কী রিপোর্ট পেশ করে, তার উপর নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যৎ পথ। আদালতের মনোভাব স্পষ্ট—সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে আর কোনও টালবাহানা বরদাস্ত হবে না।