চিঠিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই দাবিগুলি কোনও বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা, চাকরির স্থায়িত্ব, আর্থিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সাংবাদিক বৈঠক
শেষ আপডেট: 2 January 2026 20:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের শুরুতেই নিজেদের দাবি আদায়ে ফের রাজভবনের (Rajbhavan) দিকে তাকাল রাজ্যের সরকারি কর্মী ও শিক্ষক সমাজ (Sangrami Joutho Mancha)। রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের সময় চেয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। উদ্দেশ্য একটাই - দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা কর্মী ও শিক্ষক-স্বার্থ সংক্রান্ত পাঁচ দফা দাবি সরাসরি তুলে ধরা।
চিঠিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই দাবিগুলি কোনও বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা, চাকরির স্থায়িত্ব, আর্থিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই প্রসঙ্গেই ফের একবার নবান্ন অভিযানের (Nabanna Abhijan) ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে এই কর্মসূচি করা হবে বলে জানিয়েছে তাঁরা। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি, সেদিন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দায় সরকারের।
সংগঠনের দাবিপত্রের প্রথম ও প্রধান বিষয় সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission)। তাঁদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে অবিলম্বে কমিশন গঠন না হলে রাজ্যের কর্মী ও শিক্ষকরা সংশোধিত বেতন থেকে বঞ্চিত হবেন। পাশাপাশি ষষ্ঠ বেতন কমিশনের পার্ট–টু এখনও কার্যকর না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। সংগঠনের দাবি, এর প্রভাব পড়ছে কর্মীদের মনোবল এবং সরকারি পরিষেবার মানের উপর।
তৃতীয় দাবিতে উঠে এসেছে দীর্ঘদিন কাজ করা চুক্তিভিত্তিক ও পার্ট-টাইম কর্মীদের ভবিষ্যৎ। বছরের পর বছর পরিষেবা দেওয়ার পরও তাঁরা আজও চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত - এই অবস্থার অবসান ঘটিয়ে নিয়মিতকরণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
চিঠির পরবর্তী অংশে রয়েছে বহু আলোচিত ডিএ প্রসঙ্গ (DA)। সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী AICPI সূচক মেনে বকেয়া ডিএ দ্রুত মেটানোর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে কেন্দ্র ও অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে আর্থিক সমতা বজায় থাকে এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে কর্মীরা কিছুটা স্বস্তি পান।
সবশেষে প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে করে দেওয়া আরেকটি সমস্যার দিকে নজর টেনেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ - প্রায় ছয় লক্ষ শূন্যপদ। সরকারি দফতর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। দ্রুত, স্বচ্ছ ও সময়বদ্ধ নিয়োগ না হলে পরিষেবা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই আশঙ্কা সংগঠনের।
চিঠিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই দাবিগুলি কেবল সংখ্যার হিসেব নয়, এর সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য কর্মী, শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের সম্মান, স্থিতি ও ভবিষ্যৎ। সংগঠনের বিশ্বাস, রাজ্যপালের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ও দিকনির্দেশেই এই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটতে পারে।