নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৪ জানুয়ারি দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ককে হাওড়া ময়দানে একটি এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে বলা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 2 January 2026 19:52
দেবাশিস গুছাইত, হাওড়া: জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্যের পর এবার এসআইআর শুনানিতে ডাকা হল দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ক, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী নন্দিতা চৌধুরিকে। এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় রাজ্য জুড়ে বহু ভোটারকে শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে। সেই তালিকায় এবার নাম উঠল এই জনপ্রতিনিধির।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৪ জানুয়ারি দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ককে হাওড়া ময়দানে একটি এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
শুক্রবার নন্দিতা চৌধুরি বলেন, “আমাকে কেন শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তা আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি ড্রাফট পাঠানো হয়েছে। কী কারণে আমাকে ডাকা হয়েছে, তা ৪ জানুয়ারি শুনানি কেন্দ্রে গিয়েই জানতে পারব। আমি অবশ্যই শুনানিতে অংশ নেব।” তবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮২ সাল থেকে ভোট দিয়ে আসছেন তিনি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল এবং সেই নির্বাচনেও ভোট দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। শুধুমাত্র তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক বলেই এই পদক্ষেপ।
নন্দিতা চৌধুরির দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে শুধু রাজনৈতিক নেতাদেরই নয়, সাধারণ মানুষকেও বারবার শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার বাবা অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্য হাওড়া থেকে পাঁচবারের বিধায়ক এবং হাওড়া সদর থেকে একবারের সাংসদ ছিলেন। আমি নিজে ২০১৩ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমার সমস্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেই রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা মানুষের কাছে পৌঁছতে না পেরে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তৃণমূলকে হয়রানি করার চেষ্টা করছে।
এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে জনপ্রতিনিধিদের ডাক পড়ায় ভোটের আগে আঁচ বাড়ছে হাওড়ায়।