অ্যাম্বুল্যান্সে শুয়ে এসআইআর-এর শুনানিতে হাজির হওয়া আসিয়া বিবি বলেন, "ভোটার তালিকায় আমার নামের বানানের ছোট্ট একটু ভুল রয়েছে। আমি হাঁটতেও পারি না। সোজা হয়ে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে পড়ে যাই। তাও আমাকে ডেকে পাঠিয়েছে।"

শেষ আপডেট: 2 January 2026 19:07
মামিনুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ: রাজ্যজুড়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিঢ় সংশোধনের প্রক্রিয়ার শুনানি চলছে। শুনানি পর্বে হয়রানি অব্যাহত অসুস্থ, অশক্ত মানুষদের।
২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও সেখানে কিছু ভুল থাকায় শুক্রবার কান্দি ব্লকে শুনানির জন্য সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছিল মহলন্দি গ্রামের এমন কয়েকজন বাসিন্দাকে, যাদের বিছানা থেকে ওঠার ক্ষমতা নেই। কান্দির তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকারের উদ্যোগে তাঁদের জন্য অ্যাম্বুল্য়ান্সের ব্যবস্থা করা হয়। অ্যাম্বুল্যান্সে করে কান্দি ব্লক অফিসে আসেন মাকসুদা বেওয়া, আসিয়া বিবি-সহ আরও অনেকেই। অন্য কারও সাহায্য ছাড়া যাঁদের চলাফেরা করার ক্ষমতা নেই।
অ্যাম্বুল্যান্সে শুয়ে এসআইআর-এর শুনানিতে হাজির হওয়া আসিয়া বিবি বলেন, "ভোটার তালিকায় আমার নামের বানানের ছোট্ট একটু ভুল রয়েছে। আমি হাঁটতেও পারি না। সোজা হয়ে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে পড়ে যাই। তাও আমাকে ডেকে পাঠিয়েছে। এখানে আসতে খুব কষ্ট হয়েছে। তৃণমূলের নেতারা অ্যাম্বুল্যান্স ঠিক করে দেওয়ায় আসতে পেরেছি।"
অসুস্থ মাকসুদা বেওয়া বলেন," আমি বিছানা থেকেই উঠতে পারি না, খুবই অসুস্থ। তাও এসআইআর-এর শুনানির জন্য এখানে আমাকে আসতে হয়েছে। অনেকেই বলেছে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে দেশ থেকে চলে যেতে হবে , তাই শুনানিতে এসেছি।"
অপূর্ব সরকারের দাবি, কান্দির মহালন্দি গ্রামে বংশপরম্পরায় বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাস করছেন। কিন্তু সেখানকার বেশ কিছু মানুষকে শুক্রবার এসআইআর-এর শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। তিনি বলেন, "জাতীয় নির্বাচন কমিশন নামের ছোটখাটো ভুলের জন্য সাধারণ মানুষের হয়রানি করছে। নির্বাচন কমিশন যদি বাড়িতে গিয়ে ভোট নিতে পারে তাহলে কেন বৃদ্ধ, অশক্ত,অসুস্থ মানুষদের এসআইআর-এর ফর্ম পূরণ এবং শুনানি বাড়িতে গিয়ে করা হচ্ছে না!"