ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় তার আগেই মাঠে নামতে চাইছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই পরীক্ষার মরশুম শুরুর আগে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তত একটি করে সভা করার রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 2 January 2026 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি ‘শাহি’ (Amit Shah) সফরেই বদলে গেল সমীকরণ। অমিত শাহের বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ - এই দু’টি ঘটনাই স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিজেপির অন্দরে দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) ঘিরে যে দূরত্ব ও মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত সরিয়ে রাখা হয়েছে। আর সেই সঙ্গে ফের বঙ্গ বিজেপির চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন দিলীপ ঘোষ।
নতুন বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক মঞ্চে প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে তাঁর। আগামী ৬ জানুয়ারি রানাঘাটে বিজেপির সভায় রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) সঙ্গে একসঙ্গে দেখা যাবে দিলীপ ঘোষকে। দীর্ঘ সময় পরে এই সভাকেই তাঁর রাজনৈতিক ‘কামব্যাক’-এর সূচনা হিসেবে দেখছে রাজ্য বিজেপি (West Bengal BJP)।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৩ থেকে ৫ জানুয়ারি মেদিনীপুরে সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাবেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তার পরেই ৬ তারিখ রানাঘাটের সভা। এই সভার পর উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় ধারাবাহিক জনসভায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রতিটি সভাতেই সঙ্গে থাকবেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
আগে ঠিক ছিল, ১৩ জানুয়ারি দুর্গাপুর (Durgapur) থেকে নতুন করে রাজনৈতিক সভা শুরু করবেন দিলীপ। তবে সেই পরিকল্পনা বদলে এখন ৬ জানুয়ারিতেই তাঁকে ফের রাজনৈতিক মঞ্চে নামানো হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ৬ জানুয়ারি রানাঘাটের পর ৭ জানুয়ারি বারাকপুরে, ৮ তারিখ কোচবিহারে, ৯ তারিখ জলপাইগুড়িতে এবং ১০ জানুয়ারি মালদহে সভা করতে পারেন দিলীপ ঘোষ। এই সব কর্মসূচিতেই শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিত থাকার কথা।
ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন - উত্তরবঙ্গে বিজেপির উত্থান শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই। গত চার বছরে দলের সমর্থন উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। তবে কোচবিহারে এখনও লড়াই কঠিন বলেই তাঁর মত। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর বিজেপির ফল আরও ভাল হবে বলে আশাবাদী দিলীপ।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় তার আগেই রাজনৈতিক কর্মসূচি সেরে ফেলতে চাইছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই পরীক্ষার মরশুম শুরুর আগে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তত একটি করে সভা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই জানুয়ারির মাঝামাঝি, সম্ভবত ১৭ বা ১৮ তারিখ, মালদহে প্রধানমন্ত্রীর সভা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। সেই সভাকে ঘিরেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নিজেও ৪ জানুয়ারি থেকেই ধারাবাহিক রাজনৈতিক সভা শুরু করছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষাকালীন সময়ে মাইক ব্যবহার করে কোনও প্রকাশ্য সভা করা হবে না। সে সময় সংগঠনের ভিত মজবুত রাখতে ঘরোয়া বৈঠকের ওপরেই জোর দেওয়া হবে।