শিক্ষক নিয়োগ মামলায় বয়সে ছাড় নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

শেষ আপডেট: 19 January 2026 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) শিক্ষক নিয়োগ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) যে নির্দেশে কিছু প্রার্থীর জন্য বয়সে ছাড়ের সুযোগ করে দিয়েছিল, সেই মামলায় অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আপাতত হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর হবে না। এর সঙ্গে মামলার সমস্ত পক্ষকে নোটিস পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam 2016) সুপ্রিম কোর্ট আগেই বলেছিল, যাঁরা দুর্নীতিতে জড়িত নন বা ‘আনটেন্টেড’ (Untainted), তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় (Recruitment) বয়সের ছাড় পেতে পারেন। এমনকি নির্ধারিত বয়সসীমা পেরিয়ে গেলেও তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। এই রায়ের ব্যাখ্যা চেয়ে এবং বয়সে ছাড়ের দাবি নিয়ে কয়েকজন নতুন প্রার্থী কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা করেছিলেন। তাঁরা ২০১৬ সালের নিয়োগপর্বে ছিলেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগও ছিল না। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে অংশ নিতে বয়সে ছাড় চান তাঁরা।
গত ১২ ডিসেম্বর বিচারপতি অমৃতা সিনহা রায়ে জানিয়েছিলেন, এসএসসি (SSC) আলাদা করে ‘দাগি’ বা ‘টেন্টেড’ প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে যাঁদের নাম দুর্নীতির তালিকায় নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বয়সের কারণে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। সেইমতো হাইকোর্ট বয়সে ছাড়ের সুযোগ দেয়।
এই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যায় মামলাটি। দেশের সর্বোচ্চ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। অর্থাৎ এখনই হাইকোর্টের রায় কার্যকর হবে না। এই মামলার পরবর্তী শুনানি মার্চ মাসে হবে। তার আগে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এসএসসি দুর্নীতির (2016 Recruitment Scam) কারণে গত বছরের মার্চে পুরো প্যানেল বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। আদালতের নির্দেশে নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাঁরা ‘দাগি’, তাঁরা নতুন প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন না, বেতনও ফেরত দিতে হবে। কিন্তু যাঁরা দাগিদের তালিকায় নেই, তাঁরা নতুন করে সুযোগ পাবেন এবং বয়সেও ছাড় মিলবে। তবে হাইকোর্টের যে রায় নতুন প্রার্থীদের বয়সছাড়ের সুযোগ দিয়েছিল, সেটি আপাতত বন্ধ রাখল সুপ্রিম কোর্ট। এখন মার্চ মাসের শুনানিতে মামলার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।