রাজ্যের নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে এদিন বড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানতে চাইল—“নতুনদের সঙ্গে পুরনোদের একসঙ্গে পরীক্ষায় বসাতে হল কেন, কীসের তাড়া?”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 26 November 2025 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকরা। প্রথম দিন থেকেই যে প্রশ্ন তাঁরা করে আসছিলেন, সেটাই বুধবার যেন প্রতিধ্বনিত হল আদালতে।
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের অন্যতম সুমন বিশ্বাস, মেহেবুব মণ্ডলরা বলেন, “আমরা বারবার বলেছি—নতুনদের সঙ্গে পুরনোদের বসানোর যুক্তি নেই। আজ সুপ্রিম কোর্টও প্রশ্ন করল, ২০১৬ সালের যোগ্য প্রার্থীদের জন্য আলাদা পরীক্ষা কেন হয়নি?”
শুধু তাই নয়, রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বিনোদ কুমারও আলাদা পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষেই ছিলেন—এ দাবি শিক্ষকদের। তাঁদের অভিযোগ, “রাজ্য সরকার নিজেদের চাকরি চুরির কাহিনি চাপা দিতেই ঘোলা জলে মাছ ধরার মতো নতুন–পুরনোকে একসঙ্গে জট পাকিয়েছে।”
আক্ষেপের সুরে অভিযোগ উঠেছে—তাঁরা আগেই আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গুরুত্ব পায়নি। সুমনের আক্রমণ আরও তীক্ষ্ণ, “এসএসসিকে জিজ্ঞেস করব—কেন এই জট? কেন নতুন–পুরনোদের বিবাদে ঠেলে দেওয়া হল?” মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশেও তাঁর হুঁশিয়ারি, “২০১৬-র প্যানেলের একজন যোগ্য শিক্ষকও বাদ পড়লে যুদ্ধ ঘোষণা করব। এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী।”
এদিকে অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার নিয়ম নিয়েও ক্ষোভ ছড়িয়েছে নতুনদের মধ্যে। অভিযোগ, সেই ‘এক্সট্রা নম্বর’-এর জেরে বহু নতুন পরীক্ষার্থী পিছিয়ে গিয়েছেন। স্বচ্ছতার অভাব, গোপনীয়তার আড়ালে চাকরি চুরির রহস্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা—এমনই সরব অভিযোগ দুই শিবিরেরই।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে এদিন বড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানতে চাইল—“নতুনদের সঙ্গে পুরনোদের একসঙ্গে পরীক্ষা বসাতে হল কেন, কীসের তাড়া?” আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, পুরনো প্রার্থীদের সমস্যা রাজ্য সরকারকেই সমাধান করতে হবে, নতুনদের ভবিষ্যৎ যেন কোনও ভাবেই বিপন্ন না হয়। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এসএসসি-সংক্রান্ত সব মামলার শুনানি চলবে কলকাতা হাইকোর্টেই।
আগামী ২৮ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হাইকোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরে এখন সেখানেই তাকিয়ে আন্দোলনকারীরা, চাকরিপ্রার্থীরা, আর রাজনৈতিক মহল।