"যারা দেশ গড়েছেন, ভারতবর্ষকে স্বাধীন করেছেন তাদের গাইডলাইন মেনে চলব। বিজেপির গাইডলাইনে নয়, পরিষ্কার করে বলে গেলাম।"
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 26 November 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের গণতন্ত্র রক্ষার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)। বুধবার সংবিধান দিবসে (Constitution Day) বাবা সাহেব আম্বেদকরের (Baba Saheb Ambedkar) মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান মমতা। সেখানেই এ প্রসঙ্গে কেন্দ্র এবং বিজেপিক ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে একটি সংবাদ পত্রে দেখলাম সংসদে নাকি জয়হিন্দ, বন্দে মাতরম বলা যাবে না। সত্য-মিথ্যা জানি না। খোঁজ নেব।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বন্দে মাতরম তো জাতীয় সঙ্গীত। তাহলে কি বাংলার আইডেনটিটি নষ্ট করতে চাইছে? ওরা ভুলে যাচ্ছে বাংলা ভারতের বাইরে নয়। ক্ষমতায় আছে বলে বিজেপি ভাবছে যা খুশি করবে, তা আমরা বরদাস্ত করব না।"
এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, "যেকোনও মূল্য গণতন্ত্রকে রক্ষা করবই। যারা দেশ গড়েছেন, ভারতবর্ষকে স্বাধীন করেছেন সেই বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গাইডলাইন মেনে চলব। বিজেপির গাইডলাইনে নয়, পরিষ্কার করে বলে গেলাম।"
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন সংবিধান হাতে বাবা সাহেব আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নিরপেক্ষতা, সাম্যতার যে খসড়া তৈরি করা হয়েছিল তা পড়ে শোনান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
এরপরই ক্ষোভের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, ধর্মের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ চলছে, তপসিলি, দলিত, সংখ্যা লঘু বা সাধারণ হিন্দু ভোটার কাউকেই বাদ দেওয়া হচ্ছে না।"
এসআইআরের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা বছরের পর বছর দেশের মাটিকে লালন-পালন করেছেন, আজকে তাঁদের কাছে দেশে থাকার প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে। নাগরিক অধিকারের নাম করে মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার বনগাঁ সীমান্তে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানকার মানুষের দুর্দশার বর্ণনা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মানুষ হাউমাউ করে কাঁদছে, সেই বুক ফাটা কান্না আর্তনাদ না দেখলে বুঝতে পারবেন না। যারা এটা নিয়ে রাজনীতি করছে তারা দেশের পক্ষে লজ্জা। এদের ধিক্কার জানাই।"
খানিক থেমে প্রশ্ন তুলেছেন, "এটাই কি বিজেপির নীতি? ঝুট আর লুট, ভোটের আগে ১০ হাজার দাও, আর ভোটের পর সব লুট করে নাও!"
এসআইআর এর নাম করে দেশজুড়ে যেভাবে আতঙ্কের এবং চাপের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে তাতে শুধু বাংলা নয়, সারা দেশে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি একাধিক বিএলও-র মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার বনগাঁর সভা থেকে রাজ্যের সিইও-কে 'ছোট স্যার' সম্বোধন করে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ফের তাঁকে নিশানা করে মমতা বলেন, "আমি মনে করি বিএলও-দের দাবি ন্যাহ্য। তাঁদের নিজেদের কথা জানাতে সিইও অফিসে ৪৮ ঘণ্টা বসে থাকতে হল! এরা এত অমানবিক!""
এ প্রসঙ্গে নিজের উদাহরণ তুলে ধরে মমতা বলেন, "আমি তো কাল রাস্তা দিয়ে আসছিলাম, মানুষের বিক্ষোভ দেখে আমি সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁদের কথা শুনলাম। তাহলে ওদের কেন এত অহঙ্কার? বলছে, ৪ জনের বেশি মিট করতে পারবে না?"
নাম না করে মোদী-শাহকে 'বাবুমশাই' সম্বোধন করে বলেন, "বিএলওদের ফোন করে হুমকি দিচ্ছেন, বলছেন, চাকরি খেয়ে নেবেন! বিএলওরা আজকে মারা যাচ্ছে। সার্ভার কাজ করছে না, তাঁরা আপলোড করতে পারছে না। আমরা এজন্যই বলেছিলাম, তাড়াহুড়ো না করে সময় করে কাজটা করুন। তা না করে গায়ের জোরে এসআইআর এর নাম করে পিছনের দরজা দিয়ে বাংলা দখলের চেষ্টা হচ্ছে।"
এরপরই তাচ্ছিল্যের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এক কাজ করুন, আপনারা ৪ কোটি মেশান, তবু আমরা লড়ে নেব! এদের জন্য ধিক্কার ছাড়া আর কিছু নেই।"