হিলটোপিয়া মূলত তাদের জন্য, যাঁরা ভিড় এড়িয়ে অফবিট পাহাড়ি অভিজ্ঞতা চান। আবার বেসিক কমফোর্ট ও হসপিটালিটি থেকেও বঞ্চিত হতে চান না।

হিলটোপিয়া
শেষ আপডেট: 26 November 2025 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠান্ডার টানে নয়, এখন দার্জিলিংয়ের পাহাড় ডাকছে এক অন্য কারণে। সুখিয়া পোখরির (Sukhia Pokhri) ‘লেপার্ড ট্রেল’-এর পাশাপাশি সেখানে শান্ত, নির্জন পাহাড়ি সকাল আর মেঘে ছাওয়া বিকেলের জন্য পর্যটকদের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে ‘হিলটোপিয়া’(Hilltopia, Parmaguri)। অনেকেই বলছেন, “হিলটোপিয়ায় থাকা মানেই মেঘের দেশে হোমস্টে বুক করা!”
মেঘের ভেতর ঘুম ভাঙা, সামনে পুরো কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জ
পারমাগুড়ি খাসমহলে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে তৈরি এই অফবিট হোমস্টের (Sukhia Pokhri Homestay) কথা হঠাৎ করেই মুখে মুখে ফিরছে। ঠিক সময়ে যেমন তিনচুলেতে গুরুং গেস্ট হাউজের নাম ছড়িয়েছিল। পরিষ্কার আকাশ থাকলে হিলটোপিয়া থেকে পুরো কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জ দেখা যায়। চারদিক জুড়ে হিমালয়ের সবুজ উপত্যকা আর মেঘের আনাগোনা শীতের ভোর বা শরতের ঝকঝকে সকালে বারান্দায় দাঁড়ালে মনে হয়—ঘরটা যেন আকাশের এক কোণে ঝুলছে।
অফবিট লোকেশন, তবু সমস্ত কমফোর্ট একসঙ্গে (Hilltopia offbeat stay)
হিলটোপিয়া মূলত তাদের জন্য, যাঁরা ভিড় এড়িয়ে অফবিট পাহাড়ি অভিজ্ঞতা চান। আবার বেসিক কমফোর্ট ও হসপিটালিটি থেকেও বঞ্চিত হতে চান না। এখানে রয়েছে— মোট ৯টি ঘর। একটি ডরমেটরি – বন্ধুদের গ্রুপ বা ব্যাকপ্যাকারদের জন্য আদর্শ। আলাদা ডাইনিং রুম। প্রয়োজনে ইন-রুম ডাইনিং ফ্যাসিলিটি। স্টাফদের আচরণ নিয়েও পর্যটকদের অভিজ্ঞতা এককথায় উজ্জ্বল—অনেকেই বলছেন, “এখানকার স্টাফরা এতটাই ফ্রেন্ডলি আর হেল্পফুল যে, কয়েক দিন থাকলেই নিজেদের বাড়ি মনে হয়।”
একসময় সুখিয়া পোখরি মানেই ছিল—কুয়াশা, বরফ আর হাড়-কাঁপানো ঠান্ডা। এখন সেই সুখিয়া পোখরিকে নিয়ে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এখানকার লেপার্ড ট্রেল প্যাকেজ (Leopard Trail Package)। রাতের সাফারি-স্টাইল গাইডেড ট্যুর ও রাতের রাস্তা পেরিয়ে যাওয়া চিতাবাঘের হেডলাইটে ধরা পড়া ছবি। এই নতুন লেপার্ড-ট্রেল অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিলটোপিয়ায় থাকা। যেখানে দিনে মেঘ, সন্ধ্যায় লেপার্ড ট্রেল, ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা—এক ট্রিপেই যেন তিনটে ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
হিলটোপিয়া একসঙ্গে তিন ধরনের পর্যটকের চাহিদা মেটাতে পারে—ফ্যামিলি ট্র্যাভেলার, অর্থাৎ যাঁদের নিরিবিলি, নিরাপদ, পরিষ্কার ঘর পছন্দের। বাচ্চাদের জন্য ওপেন স্পেস, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে ভরপুর। কাপল বা নবদম্পতি, যাঁরা অফবিট, ভিড়হীন লোকেশন চান। ভোরবেলা কাঞ্চনজঙ্ঘার সামনে কফি–মুহূর্তের ছবি তুলে রাখেন। আর বন্ধুদের গ্রুপ বা ব্যাকপ্যাকার। ডরমেটরিতে থাকার সুবিধা রয়েছে, সেই সঙ্গে বাজেট-ফ্রেন্ডলি, কিন্তু লোকেশন ‘প্রিমিয়াম’। হোমস্টের নাম হল হিলটোপিয়া (HILLTOPIA, Ramji busty, Parmaguri Khasmahal, Sukhia Pokhari, Contact: 81002 23340)।
কীভাবে পৌঁছাবেন Hilltopia–তে? (How to reach Hilltopia, Sukhia Pokhri)
বাগডোগরা বিমানবন্দর → প্রায় ৭১ কিমি
নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন → প্রায় ৭৫ কিমি
দার্জিলিং থেকে ঘুম হয়ে মিরিক রোড ধরে, সেখান থেকে স্থানীয় গাড়ি বা আগে থেকে বুক করা গাড়িতে সহজেই পারমাগুড়ি রামজি বস্তিতে (Parmaguri, Ramji busty) হিলটোপিয়ায় পৌঁছানো যায়।
কেন হিলটোপিয়া আলাদা?
মেঘের দেশে থাকার রিয়েল ফিল। পরিষ্কার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার পুরো রেঞ্জ দেখার সুযোগ। অফবিট লোকেশন, তবু কানেক্টিভিটিতে ঝামেলা নেই। ৯টি সুন্দর রুম + ডরমেটরি—সবার জন্য বিকল্প রয়েছে। আলাদা ডাইনিং, ইন-রুম ডাইনিং, হোম-কুকড খাবারের স্বাদ। সবচেয়ে বড় কথা—লোকাল, ফ্রেন্ডলি, ওয়ার্ম হসপিটালিটি।
এক কথায়, হিলটোপিয়া শুধু থাকার জায়গা নয়, সুখিয়া পোখরির নতুন পরিচয়—মেঘের ভেতর ঘর, সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা, আর পাহাড়ি শান্তির এক সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা।