এসএসসি-র দাবি, তাদের মোট কর্মী সংখ্যা মাত্র ৩৫ জন। এর মধ্যে ২৪ জনকে নির্বাচন কমিশন ভোটের কাজে নিয়ে নিয়েছে। ফলে হাতে থাকা সীমিত কর্মী নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 March 2026 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে বড়সড় জটিলতার মুখে পড়ল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হল কমিশন।
বিচারপতি কৃষ্ণা রায়ের এজলাসে কমিশনের তরফে জানানো হয়, শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। আগে মার্চের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসএসসি-র দাবি, তাদের মোট কর্মী সংখ্যা মাত্র ৩৫ জন। এর মধ্যে ২৪ জনকে নির্বাচন কমিশন ভোটের কাজে নিয়ে নিয়েছে। ফলে হাতে থাকা সীমিত কর্মী নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চললেও তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এই কর্মীরা একটি স্বশাসিত সংস্থার অন্তর্গত। তাই নির্বাচন কমিশনের তরফে তাদের সরাসরি ভোটের কাজে টেনে নেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও, শীর্ষ আদালতও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। একই সঙ্গে অযোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই নির্দেশ মেনেই নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের লিখিত পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে ইন্টারভিউ।
কিন্তু ভোটের জন্য কর্মী টান পড়ায় পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে কিনা, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় কমিশন। আগাম পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।
কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হবে। এখন সেই শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে কমিশন এবং হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।