সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের নির্দেশে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। এমনকি রাজ্যকে মামলাটি তুলে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। আদালত স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেয় - নিজে থেকে মামলা না সরালে তা খারিজ করে দেওয়া হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 March 2026 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প (Chingrighata Metro) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার (Supreme Court Hearing) । কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেও, তাতে কোনও সুরাহা মেলেনি। উল্টে মামলাটি ফের হাইকোর্টেই পাঠিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের নির্দেশে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। এমনকি রাজ্যকে মামলাটি তুলে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। আদালত স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেয় - নিজে থেকে মামলা না সরালে তা খারিজ করে দেওয়া হবে।
শুনানির সময় বিচারপতিরা জনস্বার্থমূলক প্রকল্পে দেরি হওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘রাজনীতি’ এবং ‘গাফিলতি’র অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনাও করা হয়।
এরপরই মামলাকারী পক্ষ দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। সেই আবেদন গ্রহণ করে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, সোমবারই এই মামলার শুনানি হবে।
চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে রাজ্যের অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতায়। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্ট আগেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ এড়াতেই রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে শীর্ষ আদালতের অবস্থান স্পষ্ট - জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে আর দেরি মেনে নেওয়া হবে না। এখন নজর কলকাতা হাইকোর্টের শুনানির দিকে।
সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির সময়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল - হাইকোর্ট যে সময় বেঁধে দিয়েছে, সেই অনুযায়ীই কাজ হবে। হাইকোর্টই পুরো বিষয়টি তদারকি করবে। আরও বলা হয়েছে, চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের এই অনড় অবস্থান আসলে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি। উন্নয়নের কাজ আটকে রাখার জন্য ‘জেদ’ ধরা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।
আদালতের এই কড়া মনোভাবের পর চিংড়িঘাটা মেট্রোর জট কাটানো এবং হাইকোর্টের নির্দেশ পালন করা ছাড়া রাজ্যের সামনে আর কোনও বিকল্প রইল না বলেই মনে করা হচ্ছে।