ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে। মেঘালয় সরকারের ‘ডিরেক্টর অফ এলিমেন্টারি মাস এডুকেশন’-এর পক্ষ থেকে ৫২১টি শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 March 2026 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআই-এর (CBI) দেওয়া চার্জশিট খারিজ করে দেওয়ার পর এবার চাকরিহারাদের পুনর্বহাল নিয়ে মেঘালয় সরকারের অবস্থান জানতে চাইল হাইকোর্ট (Meghalaya High Court)। ২০১০ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ (Primary Teachers Recruitment) প্রক্রিয়ায় যে ২৪৬ জন চাকরি হারিয়েছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করছে, তা হলফনামা দিয়ে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে। মেঘালয় সরকারের ‘ডিরেক্টর অফ এলিমেন্টারি মাস এডুকেশন’-এর পক্ষ থেকে ৫২১টি শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। মেধা তালিকা প্রকাশের চার বছরের মাথায়, ২০১৪ সালে দুর্নীতির অভিযোগে ২৪৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কাজ হারান। অভিযোগ ছিল, অকৃতকার্য প্রার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে বেআইনিভাবে তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ও পদস্থ আধিকারিকদের নামও এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে।
মামলা গড়ায় মেঘালয় হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। আদালতের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত শুরু হয় এবং একটি উচ্চপর্যায় কমিটি গঠিত হয়। সেই সময় সিবিআই রিপোর্টে ২৪৬ জনকে ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে মেঘালয় হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই-এর সেই চার্জশিট বাতিল করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা ওএমআর শিট বিকৃতির তথ্য পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সোমবার চাকরিহারাদের পক্ষে আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী আদালতে সওয়াল করেন, “একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একদল চাকরি করবেন আর অন্য দল বিনা অপরাধে কাজ হারাবেন, এটা অসাংবিধানিক। যেহেতু সিবিআই দুর্নীতির কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি, তাই ওই নিরপরাধ শিক্ষকদের কেন চার বছর কাজ করার পর বসিয়ে রাখা হবে?” তাঁদের দাবি, প্রশাসনের ভুলের মাশুল যোগ্য প্রার্থীরা দিতে পারেন না। তাঁদের গায়ে লাগানো ‘অযোগ্য’ তকমা এখন আইনিভাবে ভিত্তিহীন।
এই সওয়াল শোনার পরই আদালত মেঘালয় সরকারের কাছে হলফনামা তলব করেছে। ওই শিক্ষকদের চাকরিতে ফেরানো নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।