মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে বৃহস্পতিবার সকালেও কালীঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ।

নবান্নে চাকরিহারাদের প্রতিনিধি
শেষ আপডেট: 29 May 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিগত কিছুদিনে নবান্নর (Nabanna) নিরাপত্তায় আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে। কারণ চাকরিহারাদের অভিযানের সম্ভাবনা ছিল। দুম করে কোনও চাকরিহারা শিক্ষক বা শিক্ষিকা (Jobless Teachers) যাতে নবান্নে ঢুকে যেতে না পারে তার জন্য আইকার্ড দেখেই কর্মীদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। যদিও বৃহস্পতিবার নবান্নে এসেছিলেন চাকরিহারাদের ৪ প্রতিনিধি। তাঁরা নিজেদের দাবিদাওয়া জানিয়ে চিঠিও দিয়ে গেছেন।
এদিন নবান্নর গেট পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন ৪ জন চাকরিহারা। ভিজিটর গেটে এসে তাঁরা চিঠি জমা দিয়ে চলে যান। ২০১৬ সালের এসএলএসটি-র (2016 SLST) চারজন প্রতিনিধি এসেছিলেন এই চিঠি দিতে। তাঁদের মূল দাবি দুটি। এক, নিজেদের আগের কর্মক্ষেত্রে যাতে তাঁরা কাজ শুরু করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা এবং দুই, আগামী দিনে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে তাতে যাতে তাঁরা অংশ নিতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) ওই চিঠি মারফৎ তাঁরা জানিয়েছেন, বিষয়টি শুধুই আর্জি হিসেবে যেন ধরা না হয়। এটা আসলে তাঁদের বেঁচে থাকার লড়াই, মূল্যবোধের যুদ্ধ।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে বুধবারের পরও বৃহস্পতিবার সকালেও কালীঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ। তবে দুটি ক্ষেত্রেই পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। পুলিশের এক কর্তা বলেছিলেন, 'কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে চাকরিহারাদের একাংশ নবান্নেও চলে আসতে পারে বলে খবর ছিল। সে কারণেই নবান্নে বাড়তি সতর্কতার ব্যবস্থা করা হয়েছে'। দেখা গেল, নবান্নেই গেছিলেন চাকরিহারারা। তবে কোনও বিক্ষোভ না অশান্তকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

প্রসঙ্গত, স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঢালাও দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ (SSC SCAM)তুলে গোটা প্যানেলটাই বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ মেনে ৩০ মে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার (Mamata Banerjee)। গত মঙ্গলবার নবান্নে এই মর্মে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল ৩১ মে-র মধ্যে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে হলফনামা পেশ করতে হবে। সর্বোচ্চ আদালতের সেই নির্দেশ মেনে ৩০ মে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে (SSC New Recruitment)।
আসলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় খুশি হতে পারেননি চাকরিহারাদের একাংশ। 'যোগ্যরা' মনে করছেন, পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া তাঁদের কাছে লজ্জাজনক ব্যাপার। আর এখন কারও আগের মতো মানসিক অবস্থাও নয় যে চাকরির পরীক্ষা দেবে। তাই ফের একবার পরীক্ষায় বসার বিষয়টি যাতে বন্ধ করা যায় সেই আর্জিই রয়েছে চাকরিহারাদের। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সব কাজ করা হচ্ছে।