এবারের পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা নজরকাড়া। ১৬ লক্ষেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী ইতিমধ্যেই ফর্ম জমা দিয়েছেন। অথচ শূন্যপদের সংখ্যা তুলনায় অনেক কম।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 29 January 2026 22:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ আইনি টানাপড়েন, চাকরি বাতিলের যন্ত্রণা এবং রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের আবহ— সব কিছুর মধ্যেই নতুন করে পরীক্ষার পথে হাঁটছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC Exam Date)। আগামী মার্চ মাসেই স্কুল স্তরের গ্রুপ সি (Group C) ও গ্রুপ ডি (Group D) পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিল কমিশন (West Bengal School service Commission)। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ মার্চ গ্রুপ সি এবং ৮ মার্চ গ্রুপ ডি-র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা নজরকাড়া। ১৬ লক্ষেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী ইতিমধ্যেই ফর্ম জমা দিয়েছেন। অথচ শূন্যপদের সংখ্যা তুলনায় অনেক কম। গ্রুপ সি-তে প্রায় ৩,০০০ এবং গ্রুপ ডি-তে প্রায় ৫,৫০০— মোট মিলিয়ে শূন্যপদ ৮,৫০০।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতের নির্দেশে এর আগে এক ধাক্কায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল (26000 Job Deprived) হয়ে গিয়েছিল। সেই তালিকায় স্কুলের গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীরাও ছিলেন। পরে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি বহাল থাকে এবং তাঁদের নতুন করে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হলেও, গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই পথ খোলা হয়নি। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে এবং রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে চলেছে ক্ষোভ ও আন্দোলন।
আদালতের নির্দেশে গোটা প্যানেল বাতিল হওয়ার পর রাজ্য সরকার ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, সেই উদ্যোগেও সবুজ সংকেত মেলেনি। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয় আদালত। এই পরিস্থিতিতেই নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় এসএসসি।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রুপ সি-র লিখিত পরীক্ষা হবে ৬০ নম্বরের, আর গ্রুপ ডি-র পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরের। ২০১৬ সালে যেখানে গ্রুপ সি ও ডি মিলিয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লক্ষ, সেখানে এবার সেই সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাজার হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছিল, দুর্নীতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করা গেল না কেন, কেন যোগ্যদেরও একই শাস্তি পেতে হল। সেই প্রশ্ন তুলে পথে নেমেছিলেন চাকরি হারানো কর্মীরা। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি ২০১৬ সালের ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিতদের তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি। সেখানে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি শিক্ষা কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩,৫১২।
সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পরীক্ষার নির্ঘণ্ট প্রকাশ নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এটি যেমন আশার নতুন দরজা, তেমনই অতীতের ক্ষত এখনও যে পুরোপুরি শুকোয়নি, সেটাও ফের একবার মনে করিয়ে দিচ্ছে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া।