কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, বাজেয়াপ্ত তালিকায় রয়েছে নগদ টাকা, হোটেল, রিসর্ট-সহ একাধিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 21 January 2026 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC Corruption) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jibankrishna Saha) এবং মামলায় ‘মিডলম্যান’ হিসেবে চিহ্নিত প্রসন্নকুমার রায়ের (Prasanna Ray) বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইডি সূত্রের দাবি, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫৭ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা (57.78 crores seized)।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, বাজেয়াপ্ত তালিকায় রয়েছে নগদ টাকা, হোটেল, রিসর্ট-সহ একাধিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি। ইডির বক্তব্য, অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার সঙ্গেই এই সব সম্পত্তির যোগ রয়েছে। শুধু নিজের নামে নয়, আত্মীয়-পরিজনদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যবসাতেও চাকরি দুর্নীতি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন জীবনকৃষ্ণ, এমনটাই দাবি তদন্তকারীদের।
মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের এপ্রিলে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। সেই সময় পুকুরে মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে তদন্ত থামেনি। গত বছরের অগস্টে ওই একই মামলার আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডির হাতে গ্রেফতার হন জীবনকৃষ্ণ। সে বার অভিযোগ উঠেছিল, পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ইডির দাবি, তদন্তে একাধিক সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিস মেলে। বিধায়কের স্ত্রী ও বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রয়োজনীয় নথি চেয়েও পাওয়া যায়নি, আদালতে এমনই দাবি করেছিলেন ইডির আইনজীবী।
অন্য দিকে, এসএসসি দুর্নীতির মামলায় প্রসন্নকুমার রায়কে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পরে আর্থিক দুর্নীতির দিকটি খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে ইডি। বর্তমানে প্রসন্ন জেল হেফাজতে। ইডির তদন্তে তাঁর বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টে ২৬ কোটি ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬৭২ টাকা থাকার খোঁজ মিলেছে। যদিও প্রসন্নের দাবি, এই অর্থ সম্পূর্ণই কৃষিকাজ থেকে উপার্জিত। কেন্দ্রীয় সংস্থার চার্জশিটেও তাঁর সেই বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। প্রসন্নের দাবি, স্থানীয় চাষিদের মজুরির ভিত্তিতে জমিতে বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি এবং সেই আয়ের টাকা নিজের বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন।