সারা রাজ্য যখন দুর্গাপুজোর আলো-আনন্দে মেতে উঠেছে, তখন চুঁচুড়ার কোদালিয়ার এক বাড়িতে ছায়া নেমেছে বিষাদের। চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক সুমন বিশ্বাসের কথায়, “যখন সবার ঘরে উৎসব, তখন আমাদের ঘরে অনাহারের হাহাকার।”

সুমন বিশ্বাস।
শেষ আপডেট: 30 September 2025 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা রাজ্য যখন দুর্গাপুজোর আলো-আনন্দে মেতে উঠেছে, তখন চুঁচুড়ার কোদালিয়ার এক বাড়িতে ছায়া নেমেছে বিষাদের। চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক সুমন বিশ্বাসের (Suman Biswas) কথায়, “যখন সবার ঘরে উৎসব, তখন আমাদের ঘরে অনাহারের হাহাকার।”
অগস্ট মাসে আন্দোলনে ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত স্কুলে যেতে পারেননি তিনি। তাই অগস্টের বেতন কাটা গিয়েছিল আংশিক। সেপ্টেম্বরে আরও বড় ধাক্কা—এক টাকাও ঢোকেনি তাঁর অ্যাকাউন্টে। পুরো বেতন কেটে নিয়েছে সরকার। অভিযোগ তুলেছেন, তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে যেন ইচ্ছে করেই অনাহারে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের এসএসসি-র প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী চাকরি হারিয়েছেন (SSC Recruitment Scam)। তবে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁরা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারবেন এবং বেতনও পাবেন। সেই তালিকাতেই রয়েছেন সুমন বিশ্বাস। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার লিখিত পরীক্ষায়ও বসেছেন তিনি। কিন্তু আন্দোলন থামাননি। আর সেই আন্দোলনের জন্যই বেতন কাটা যাচ্ছে বলে দাবি সুমনের।
আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্ন নেই, ফের জানিয়ে দিয়েছেন চাকরিহারা এই শিক্ষক। তাঁর কথায়, “আমাদের যোগ্য চাকরি দুর্নীতিতে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাই লড়াই থেকে একচুলও পিছোব না।”
পাশাপাশি সহকর্মী চাকরিহারা শিক্ষকদেরও পুজো-পরবর্তী সময়ে নতুন উদ্যমে আন্দোলনে নামার ডাক দিয়েছেন তিনি। সুমনের স্পষ্ট বার্তা, “বেতন কেটে নিলেও ভয় পাব না। পুজো শেষ হোক, তার পর ফের রাস্তায় নামতে হবে।”