তাঁর পুত্র সায়নদেব চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, দল যদি তাঁর বাবাকে বালিগঞ্জে প্রার্থী করে, তবে তিনি 'বিরাট মার্জিনে জিতবেন।' সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হলেও দোলের সকালে শোভনদেবের বক্তব্য তা আরও উসকে দেয়।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 3 March 2026 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) আগে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ কেন্দ্র ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। শাসকদলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Sovandev Chattopadhayay) সেখানে প্রার্থী করা হতে পারে - এমন জল্পনা ইতিমধ্যেই দলীয় ও বিরোধী মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। দোলের দিন তাঁর বালিগঞ্জে (Ballygunge) উপস্থিতি এবং মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বদল আসে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী বদল ও সাংগঠনিক রদবদল দেখা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে খড়দহ উপনির্বাচনে শোভনদেবের বড় ব্যবধানে জয় দলীয় অন্দরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও সংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।
এই আবহেই সম্প্রতি তাঁর পুত্র সায়নদেব চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, দল যদি তাঁর বাবাকে বালিগঞ্জে প্রার্থী করে, তবে তিনি 'বিরাট মার্জিনে জিতবেন।' সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হলেও দোলের সকালে শোভনদেবের বক্তব্য তা আরও উসকে দেয়। বালিগঞ্জে উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, “আমার নেত্রী আমাকে বলেছে আপনি একটু বালিগঞ্জটা দেখুন। তাই বালিগঞ্জ দেখতে এলাম।” এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই অনেকেই সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত বলে ধরে নিচ্ছেন।
তবে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে নারাজ বর্ষীয়ান এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলার নেই। দলনেত্রী যে নির্দেশ দেবেন, সেটাই মেনে চলবেন - এই সীমিত প্রতিক্রিয়াতেই আপাতত থেমে রয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে একাধিক কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার নজির রয়েছে শোভনদেবের। প্রথম দু’বার বারুইপুর, পরবর্তী পাঁচবার রাসবিহারী, পরে ভবানীপুর এবং খড়দহ উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়—সব মিলিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। এবার সেই তালিকায় কি যুক্ত হবে বালিগঞ্জ?
সায়নদেবের দাবি, বালিগঞ্জের সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সহকর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন শোভনদেব। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করা হলে মানুষ সমর্থন দেবেন বলেই তাঁদের বিশ্বাস।
সব মিলিয়ে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই বালিগঞ্জ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।