সরকারি মহলে একে ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ বলা হলেও, বিরোধী শিবিরের দাবি—“সত্য বললেই সাসপেন্ড, এটাই এখন বিধানসভায় নিয়ম।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 2 September 2025 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতীতে বিধানসভায় গোলমালের অভিযোগে (২৩ জুন) এদিনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-সহ বিজেপি বিধায়কদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করেছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর কয়েক ঘণ্টাও অতিক্রান্ত হল না। ফের বিধানসভা কক্ষে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Speaker Biman Banerjee)। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল বিধানসভায় (west bengal assembly)।
ঘটনার সূত্রপাত, বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ নিয়ে এদিন বিধানসভায় আলোচনার প্রস্তাব এনেছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় নাটকীয় মোড় নেয় বিধানসভায়। বক্তব্য রাখছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সোমবার মেয়োরোডে তৃণমূলের ভাষা দিবসের মঞ্চ খোলার অভিযোগ উঠেছিল সেনার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে নিজের ভাষণে সেনার ভূমিকার সমালোচনা করেন ব্রাত্য। ঠিক তখনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাধা দেন। বলেন, “এভাবে ভারতীয় সেনা নিয়ে কথা বলা যায় না।” এরপরই তিনি একাধিকবার উচ্চস্বরে ‘ইন্ডিয়া আর্মি জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বারবার সতর্ক করেন। কিন্তু শুভেন্দু তাতে কর্ণপাত করেননি বলেই অভিযোগ। বিধানসভা কক্ষের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শেষমেশ শুভেন্দুকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বিধানসভা কক্ষ ত্যাগ করেন শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির সব বিধায়ক। বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে তাঁরা এই সাসপেনশনের প্রতিবাদ জানান।
পাল্টা শাসকদলের দাবি, আলোচনার গতি বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে বিতর্ক তৈরি করেছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে সেনা ও জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গ উঠলেই তৃণমূল অস্বস্তিতে পড়ে। এ ব্যাপারে পরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্য সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনাও করেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বলেন, "সেনার হয়ে কথা বলায় আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, আমি গর্বিত।"
অন্যদিকে শুভেন্দুর অভিযোগ উড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, "১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে টিক্কা খান ট্যাংক বের করে গুলি চালিয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,জগন্নাথ হলে। আমি এই প্রসঙ্গ বলেছি। পাকিস্তান সেনার বিরুদ্ধে ১০০ বার বলব।"
গোটা ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার পারদ চড়ছে। সরকারি মহলে একে ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ বলা হলেও, বিরোধী শিবিরের দাবি—“সত্য বললেই সাসপেন্ড, এটাই এখন বিধানসভায় নিয়ম।”