রাজ্যের ভোটার তালিকায় (West Bengal Voter List) অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে চার আধিকারিক এবং এক কর্মীর বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে এফআইআর (FIR) করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নির্বাচন কমিশন
শেষ আপডেট: 29 January 2026 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই ইআরও দুই এইআরও-কে সাসপেন্ডের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে উত্তর দিল রাজ্য (West Bengal)। সূত্রের খবর, সেই চিঠিতে বলা হয়েছে "আমরা বিভাগীয় কার্যক্রম বন্ধ করিনি। বন্ধ করা যায় কিনা তার অনুমতি চেয়েছি মাত্র।"
রাজ্যের ভোটার তালিকায় (West Bengal Voter List) অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে চার আধিকারিক এবং এক কর্মীর বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে এফআইআর (FIR) করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই প্রেক্ষিতে এর আগে নবান্ন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠিয়ে বলেছিল, আপাতত তারা চারজন অফিসারকে সাসপেন্ড করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। এফআইআর যদি করতেই হয় তার জন্য আরেকটু সময় দেওয়া হোক। কিন্তু কয়েকমাস কেটে গেলেও নবান্ন এফআইআর করেনি।
কিন্তু কমিশন নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। এরপর সম্প্রতি ওই আধিকারিক ও কর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে কমিশনের কাছে নবান্ন (Nabanna) আবারও আর্জি জানিয়ে বলে, তাঁদের 'লঘু পাপে গুরু দণ্ড' যেন না দেওয়া হয়। তবে দেখা গেল, এই আর্জির পরই ফের কড়া চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশন।
মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty) চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতরের সচিব সেই সময় কমিশনের নির্দেশ কেন মানা হয়নি, এর জন্য কোন দফতর দায়ী, এই সবকিছু বিস্তারিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেয়।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, ৫ অগস্ট ২০২৫-এর পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (এইআরও) বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশে সাসপেনশন, উপযুক্ত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার কথা বলা হয়। নির্দেশে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
এর পর ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজ্যের তরফে পাঠানো একটি চিঠিতে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও তথাগত মণ্ডল এই মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। পাশাপাশি, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে শুধু সামান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এখানেই আপত্তি তোলে কমিশন। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়, কমিশনের সুপারিশে শুরু হওয়া কোনও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধ করা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ করতে হয়। এই পরামর্শ ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত বৈধ বলে গণ্য হয় না।
বৃহস্পতিবার সেই চিঠিরই উত্তর দিয়ে নবান্নর তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, রাজ্য কোনও রকম বিভাগীয় কার্যক্রম বন্ধই করেনি। শুধু এটুকু অনুমতি চাওয়া হয়েছে যে ওই কার্যক্রম বন্ধ করা যায় কিনা। মোট কথা সব মিলিয়ে ওই চার আধিকারিককে নিয়েই এখন কমিশন ও নবান্নের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে।