নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই সমস্ত তথ্য ২৪ জানুয়ারি, বিকেল ৫টার মধ্যে জমা দিতে হবে। তার পরেই কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রশাসনিক স্তরে এই চিঠি নতুন করে চাপ তৈরি করল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 January 2026 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের ভোটার তালিকায় (West Bengal Voter List) অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে চার আধিকারিক এবং এক কর্মীর বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে এফআইআর (FIR) করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই প্রেক্ষিতে এর আগে নবান্ন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠিয়ে বলেছিল, আপাতত তারা চারজন অফিসারকে সাসপেন্ড করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। এফআইআর যদি করতেই হয় তার জন্য আরেকটু সময় দেওয়া হোক। কিন্তু কয়েকমাস কেটে গেলেও নবান্ন এফআইআর করেনি।
কিন্তু কমিশন নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। এরপর সম্প্রতি ওই আধিকারিক ও কর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে কমিশনের কাছে নবান্ন (Nabanna) আবারও আর্জি জানিয়ে বলে - তাঁদের 'লঘু পাপে গুরু দণ্ড' যেন না দেওয়া হয়। তবে দেখা গেল, এই আর্জির পরই ফের কড়া চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন।
এই মুহূর্তে তাই চার আধিকারিকের ও কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে রাজ্য-কমিশন সংঘাত কার্যত চূড়ান্ত পর্যায়। (State Govt-ECI Clash)। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty) চিঠি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের দফতরের সচিব। কমিশনের নির্দেশ কেন মানা হয়নি, এর জন্য কোন দফতর দায়ী - সবকিছু বিস্তারিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ৫ অগস্ট ২০২৫-এর পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (এইআরও) বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশে সাসপেনশন, উপযুক্ত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার কথা বলা হয়। নির্দেশে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
এর পর ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজ্যের তরফে পাঠানো একটি চিঠিতে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও তথাগত মণ্ডল এই মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। পাশাপাশি, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে শুধু সামান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এখানেই আপত্তি তুলেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশনের সুপারিশে শুরু হওয়া কোনও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধ করা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ করতে হয়। এই পরামর্শ ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত বৈধ বলে গণ্য হয় না।
কমিশনের বক্তব্য, এই বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া মানা হয়নি। কমিশনের সঙ্গে আলোচনা না করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নির্দেশিকার সরাসরি লঙ্ঘন। সেই কারণেই রাজ্য সরকারের বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্তকে মান্য করছে না এবং ওই তদন্তকে বাতিল বলে গণ্য করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে (West Bengal Govt) দুটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। প্রথমত, কেন কমিশনের নির্দেশ মানা হয়নি, তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আধিকারিককে। দ্বিতীয়ত, কোন তদন্তের ভিত্তিতে তাঁদের নির্দোষ বলা হল তার বিভাগীয় নথি - অভিযোগপত্র, লিখিত জবাব, তদন্ত রিপোর্ট, শাস্তিমূলক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব ফাইল কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই সমস্ত তথ্য ২৪ জানুয়ারি, বিকেল ৫টার মধ্যে জমা দিতে হবে। তার পরেই কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রশাসনিক স্তরে এই চিঠি নতুন করে চাপ তৈরি করল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে গত বছর ৫ অগস্ট ওই চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করতে হবে। পরদিনই ঝাড়গ্রামের সভায় দাঁড়িয়ে কমিশনের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,“ভোট তো এখনও আট মাস বাকি। এখন থেকেই অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছ? ক্ষমতা দেখাচ্ছ? কার ক্ষমতা দিয়ে এই কাজ করছ? অমিত শাহর দালালি করছ?” শুধু তা নয়, মুখ্যমন্ত্রী এও বলেছিলেন, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের প্রটেক্ট করার দায়িত্ব আমাদের। ওরা কিছু করতে পারবে না।”
এর পরই শুরু হয়ে যায় টানাপড়েন। নবান্ন কমিশনের সুপারিশ না মানায় রাজ্যের সচিবালয়কে ফের চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন। নবান্ন তখনও কমিশনের সুপারিশ মানতে চায়নি। কাউকে সাসপেন্ড না করে স্রেফ এক সহকারী ইআরও এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে ভোটের কাজ থেকে সরিয়ে দেয়।