মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নে লজিক্যাল-বৈঠক (Nabanna Meeting About SIR) ডাকা হয়েছিল নবান্নে (Mamata Banerjee)। যেখানে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (Nandini Chakraborty) রাজ্যের সব জেলাশাসককে (DMs) নিয়ে বৈঠক সারেন।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 20 January 2026 22:07
লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি (Logical Discrepancies) নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বড় নির্দেশ দিয়েছে। স্পষ্ট বলা হয়েছে, তথ্যগত অসঙ্গতি যাঁদের রয়েছে, তাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং নথি জমায় রসিদও দিতে হবে কমিশনকে (ECI)। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে রাজ্য তথা তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নিজেদের জয় হিসেবেই দেখছে। সেই আঁচ পাওয়া গেল মঙ্গলবার জেলাশাসকদের বৈঠকেও।
মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নে লজিক্যাল-বৈঠক (Nabanna Meeting About SIR) ডাকা হয়েছিল নবান্নে (Mamata Banerjee)। যেখানে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (Nandini Chakraborty) রাজ্যের সব জেলাশাসককে (DMs) নিয়ে বৈঠক সারেন। ওই বৈঠকে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে তিনি আসার আগেই সমস্ত জেলাশাসকদের মোবাইল ফোন বাইরে জমা রাখতে বলা হয়। যার অর্থ হয়তো ভিতরের কোনও কথা যাতে বাইরে না যায়।
কিন্তু নবান্নেও লক্ষ্মীন্দরের ঘরের ফুটোর মতো ভিতরের কথা বাইরে এসেই পড়েছে। সূত্রের খবর, জেলাশাসকদের সঙ্গে এদিনের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি ডিএম-দের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে এনেছি। আর আপনারা পারবেন না?” এরপরই জেলাশাসকদের বরাভয় দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই—রাজ্য সরকার তাঁদের পাশেই রয়েছে।
সূত্রের খবর এদিন মমতা স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচন কমিশন তিন–চার মাসের জন্য এলেও জেলাশাসকরা রাজ্য সরকারেরই আধিকারিক। তাঁর কড়া নির্দেশ, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে যেন কোনওভাবেই হয়রানি করা না হয়। নানা দিক থেকে বিভিন্ন রকম নির্দেশ আসতে পারে, তবে নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও কাজ না করার স্পষ্ট নির্দেশ দেন তিনি। জানা গিয়েছে, যাঁরা শুনানিতে আসতে পারছেন না বা যাঁদের কোনও সমস্যা রয়েছে, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে বাড়িতে লোক পাঠিয়ে সাহায্য করার নির্দেশও দেন তিনি।
একই সঙ্গে কমিশনকে খুশি করতে গিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করে মানুষকে সমস্যায় ফেলছেন— এমন আধিকারিকদের কড়া ভাষায় বার্তা দেন মমতা। তাঁর কথায়, “এই ধরনের লোক আমার দরকার নেই।”
বৈঠকে আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সূত্র মারফতই জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে খবর রয়েছে— তিন জন জেলাশাসক কমিশন ও কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সেই আধিকারিকদের উদ্দেশে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান খানিকটা গুরুগম্ভীর হয়েই নাকি বলেছেন যে, তিনি সব খবর রাখেন এবং কেউ যেন তা ভুলে না যান। এখানেই থামেননি। রাজ্যের আধিকারিক হয়েও যাঁরা রোল অবজার্ভারের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের একাংশ কমিশনকে খুশি করতে যা খুশি করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের আর প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। সূত্রের খবর, এই প্রসঙ্গে রোল অবজার্ভার সি মুরুগান এবং রণধীর কুমারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা। এখানে বলে রাখা ভাল, কাকতালীয়ভাবে বৈঠক শুরু হওয়ার খানিকক্ষণ আগেই রণধীর কুমারকে কম গুরুত্বপূর্ণ পদে সরিয়েও দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই এই বদলির কারণ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভকে দুইয়ে-দুইয়ে চার করার চেষ্টা করছেন।
এ ব্যাপারে এক রোল অবজার্ভার জানিয়েছেন, "এখনও তো আমরা সেভাবে কাজটা শুরুই করলাম না। তাতেই এত কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী? পুরোদস্তুর কাজ শুরু করলে তখন কী বলবেন তিনি?"
বস্তুত, জেলাশাসকদের নিয়ে মঙ্গলবারের বৈঠক যে শুধুই অভিযোগ-অনুযোগের মধ্যেই কেটেছে তা নয়। এসআইআর-এর কাজ ঘিরে কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নদিয়া-সহ কিছু জেলার কাজকর্ম নিয়ে সন্তোষও প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, বৈঠকে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিইও-দের সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারের প্রসঙ্গ টেনে নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করার নিদান দিয়েছেন।