মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে এবং বহু ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন ঘটছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 31 January 2026 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও পদ্ধতি নিয়ে ফের সরব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) আবারও একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা (Voter List SIR) সংশোধনের নামে এমন এক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে যা আইন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে এবং বহু ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন ঘটছে।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, এর আগেও তিনি একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন SIR-এর পদ্ধতি নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে বহু মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে এবং সরকারি হিসেব অনুযায়ী প্রায় ১৪০ জনের মৃত্যুও ঘটেছে। তা সত্ত্বেও আইন ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে এই সংশোধনী প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮,১০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর বক্তব্য, এই মাইক্রো অবজার্ভারদের কোনও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ বা বিশেষ দক্ষতা নেই, অথচ তাঁদের যুক্ত করা হয়েছে একেবারেই সংবেদনশীল ও প্রায় বিচারিক প্রকৃতির একটি প্রক্রিয়ায়। অথচ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ বা ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধিতে (RER, 1960) মাইক্রো অবজার্ভারদের এমন কোনও ভূমিকার কথা উল্লেখ নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইআরও এবং এয়ারোদের উপর বর্তায়। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তাঁদের কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনও সাংবিধানিক সংশোধন বা বৈধ নিয়ম প্রণয়ন ছাড়া নির্বাচন কমিশন কীভাবে এ ধরনের সমান্তরাল কাঠামো তৈরি করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে যে ভাবে SIR প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তা দেশের অন্য রাজ্যগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বলেই মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, শুনানির পদ্ধতি, নথি যাচাই, মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা, এমনকি পারিবারিক নথি বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণের ক্ষেত্রেও আলাদা মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এতে একদিকে প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চিঠির শেষ অংশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় জানান, এই ধরনের ভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ ফেডারাল কাঠামো, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মৌলিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে বলেন, সংবিধানিক কাঠামোর উপর মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং নাগরিকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ করা জরুরি।