বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় গুরুতর গাফিলতি ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে পঞ্চম বার।

জ্ঞানেশকে পঞ্চম চিঠি মমতার
শেষ আপডেট: 12 January 2026 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় গুরুতর গাফিলতি ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে পঞ্চম বার। চিঠিতে সরাসরি অভিযোগ, চলতি সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং যোগ্য ভোটারদের নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে।
সোমবারের এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এসআইআর-এর নামে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং সংবিধানসম্মত নয়। তাঁর দাবি, শুনানির সময় বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার কোনও স্বীকৃতি বা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। পরে যাচাইয়ের পর্যায়ে সেই নথিগুলিকে ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ বলে দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
মমতার অভিযোগ, নথি জমা দেওয়ার কোনও প্রমাণ ভোটারদের হাতে না থাকায় তাঁরা পুরোপুরি প্রশাসনিক গাফিলতির দয়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাঁর কথায়, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকা শুদ্ধ করা, যোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই যুক্ত রয়েছে, তাঁদের অনেককেই অকারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। অথচ তাঁরা নিজেরাই বা উত্তরাধিকারের মাধ্যমে পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপ করা। ফলে নতুন করে শুনানির প্রয়োজন নেই। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে, পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও অকারণ ক্ষোভের মুখে পড়ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ ভাবে আপত্তি তুলেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে পুরনো নথি স্ক্যান ও অনুবাদের বিষয়টি নিয়ে। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় নাম, বয়স, লিঙ্গ, সম্পর্ক বা অভিভাবকের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে গুরুতর ভুল ঢুকে পড়ছে। এর ফলেই বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ দেখিয়ে সমস্যার মুখে ফেলা হচ্ছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ বছরে অসংখ্য ভোটার ফর্ম-৮ জমা দিয়ে সরকারি নথির ভিত্তিতে তাঁদের তথ্য সংশোধন করিয়েছেন এবং সেই সব তথ্য যাচাই করে বর্তমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন সেই দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়াকেই উপেক্ষা করে আবার নতুন করে পরিচয় ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য ভোটারদের বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
মমতার প্রশ্ন, কমিশন কি তাহলে নিজস্ব আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়াকেই অস্বীকার করছে? ২০০২ সালে ফিরে যাওয়ার অর্থ কি গত দু’দশকে হওয়া সব সংশোধনকে অবৈধ বলে ধরে নেওয়া? তাঁর মতে, এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ খামখেয়ালি এবং সংবিধানের ভাবনার পরিপন্থী।
এ ছাড়া, নামের সামান্য বানানগত পার্থক্য, বয়সের ছোটখাটো ভুলের মতো বিষয় নিয়েও শুনানির নোটিস জারি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এগুলি সহজ প্রশাসনিক সমাধানের মাধ্যমেই মেটানো সম্ভব ছিল। অথচ সেই সুযোগ না দিয়ে সরাসরি শুনানির পথে হাঁটা হচ্ছে।
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত এই বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ করবে। শুধু সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করাই নয়, প্রশাসনিক যন্ত্রকেও অযথা চাপের হাত থেকে মুক্ত রাখা এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করাই এই হস্তক্ষেপের লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর।