এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগের শেষ নেই। সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক মন্তব্যকে ঘিরে।

সুব্রত গুপ্ত
শেষ আপডেট: 14 January 2026 21:57
রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অভিযোগের শেষ নেই। সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal)। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) এক মন্তব্যকে ঘিরে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করেই এক নির্বাচন আধিকারিককে কটাক্ষ করেন তিনি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে পরিষ্কার ধারণা, সেই ইঙ্গিত ছিল রাজ্যের সিইও-র দিকেই।
এই প্রেক্ষিতেই দ্য ওয়াল-এর (The Wall News) একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত (Special Roll Observer Subrata Gupta)। প্রকাশ্যে খুব বেশি কিছু না বলতে চাইলেও, তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট - এই বিতর্কে রাজ্য সরকারের ভূমিকাকেই উপেক্ষা করা যায় না।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ছিল যথেষ্ট কড়া। তিনি বলেন, “এখানকার ইলেকশন কমিশনের এক ভুঁড়িওয়ালা আধিকারিক, টাকা রাস্তায় ছোড়া থেকে শুরু করে নানা কেলেঙ্কারির নায়ক। নাম বলছি না, নাম মনে পড়লেই লজ্জা লাগে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, নাম না করলেও তাঁর নিশানায় ছিলেন মনোজ আগরওয়ালই।
এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সুব্রত গুপ্ত বলেন, কোনও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের (State Govt) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “কোনও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নির্বাচিত হন রাজ্য সরকারের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর। সরকার থেকে তাঁর নাম চেয়ে পাঠানো হয়, তাঁর ভিজিল্যান্স ক্লিয়ারেন্স দিয়ে পাঠানো হয়। মনোজ আগরওয়াল সম্পর্কেও হয়তো এমন প্রক্রিয়ায় কাজ হয়েছিল।”
অর্থাৎ, সিইও-র নিয়োগ নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে, তবে সেই প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকারকেও দাঁড়াতে হবে - এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার।
মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর আরেকটি অভিযোগ ছিল, সিইও একটি তালিকার কথা বললেও তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নাকি আট জনের ‘ক্লেম অ্যান্ড অবজেকশন’ জমা পড়েছে - এই দাবি করা হলেও সেই তালিকা সামনে আনা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “লিস্ট যদি না দেখানো হয়, মানুষ জানবে কী করে? নোটিস পাওয়ার পরেই মানুষ বুঝতে পারছে কী হচ্ছে। কখনও আবার অ্যাম্বুল্যান্সে করে শুনানিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, সিইও-কে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর এটাই প্রথম মন্তব্য নয়। গত বছরের অক্টোবরে মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের ‘বসিয়ে’ রেখে রাজ্যের সিইও অতি সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন। সেই মন্তব্যে নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভারের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে সিইও-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের দায়—এই দুইয়ের মাঝেই আরও জটিল হয়ে উঠছে এসআইআর বিতর্ক।