সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ভাইরাল হয়ে যেতেই আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন সিইও। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, ফোন সাইলেন্ট করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 12 January 2026 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসআইআর (SIR West Bengal) প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে বিএলও (BLO), সকলেই তাঁদের নিজেদের হয়রানি নিয়ে নাজেহাল। রাজনৈতিক দলগুলো তো নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে আছেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের (CEO Manoj Agarwal) ব্যক্তিগত নম্বর ভাইরাল (Number Viral) করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ভাইরাল হয়ে যেতেই আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন সিইও। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, ফোন সাইলেন্ট করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি জানাইয়েছেন, "যে হারে লাগাতার ফোন, মেসেজ আসছে, এবার এফআইআর করব।"
এসআইআর-এর (SIR West Bengal) নামে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং সংবিধানসম্মত নয় বলে সোমবারই পঞ্চমবারের মতো কমিশনে চিঠি লিখেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শুনানির সময় বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার কোনও স্বীকৃতি বা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। পরে যাচাইয়ের পর্যায়ে সেই নথিগুলিকে ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ বলে দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমন ভূরি ভূরি অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ শুরুর পর থেকেই 'কাজের চাপে' একেরপর এক বিএলও মারা গিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে এসআইআর পর্বে এখনও পর্যন্ত সাত জন বিএলও-র মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ শুরু হওয়ার মাত্র চার দিনের মধ্যেই প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পূর্ব বর্ধমানের বিএলও নমিতা হাঁসদার ‘কাজের চাপে’ অসুস্থ হয়ে মারা যান বলে অভিযোগ ওঠে।
এর প্রায় ১০ দিন পর জলপাইগুড়িতে আরও এক বিএলও-র মৃত্যু হয়। অভিযোগ, কাজের অতিরিক্ত চাপের জেরেই আত্মঘাতী হন ডুয়ার্সের মাল ব্লকের নিউ গ্লেনকো চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা বিএলও শান্তিমুনি ওঁরাও। এরপর ২১ নভেম্বর নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী হন রিঙ্কু তরফদার নামে এক বিএলও। তাঁর দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ।
পরবর্তী সময়ে মুর্শিদাবাদে জাকির হোসেন নামে এক বিএলও হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার পরে ২৮ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার রানিবাঁধে হারাধন মণ্ডল নামে এক বিএলও আত্মহত্যা করেন। সবশেষে গত শনিবার কোচবিহারে আশিস নামে এক বিএলও-র মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার চার দিনের মধ্যেই রাজ্যে আরও এক বিএলও-র মৃত্যুর খবর সামনে আসে।
এই মৃত্যু নিয়ে তৃণমূলপন্থী বিএলও সংগঠন লাগাতার রাজ্যের সিইও অফিসে ধর্না, অবস্থান, বিক্ষোভ দেখিয়ে চলেছেন। এখনও পর্যন্ত এসআইআর পর্বে যে সাত জন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের ছবি নিয়ে সোমবারও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিএলও-রা।
তাছাড়া, এসআইআর-এর হিয়ারিং পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ ভোটারদের 'ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র' ভুল-ভ্রান্তির জন্য় ডেকে পাঠানোর অভিযোগ উঠছে। বয়সজনিত সমস্যা, প্রতিবন্ধী, শয্যাশায়ী, অন্তঃসত্ত্বাদেরও শুনানিতে ডাকায় ক্ষোভ জন্মেছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
এই যাবতীয় ঝুট-ঝামেলার মধ্যে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ভাইরাল হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।