১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে মোট ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৭৪২টি আবেদন জমা পড়েছে।

মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 13 January 2026 19:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (West Bengal SIR) প্রক্রিয়ায় শুনানি পর্ব দ্রুত শেষ করতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) দ্বারস্থ হল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) দফতর। শুনানি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত ১ হাজার ৬০০ জন এইআরও প্রয়োজন বলে কমিশনের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানানো হয়েছে।
সিইও দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ডিইও-দের তরফে আবেদন জানানো হয়েছিল, বর্তমান জনবল দিয়ে বিপুল সংখ্যক শুনানি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই দাবি বিবেচনা করেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় জমা পড়া বিভিন্ন ফর্মের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে সিইও দফতর। ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Voter List) প্রকাশের পর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে মোট ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৭৪২টি আবেদন জমা পড়েছে।
সিইও দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী -
ফর্ম ৬ (নতুন নাম তোলার আবেদন): ৩ লক্ষ ৪২ হাজার
ফর্ম ৬এ (বিদেশে বসবাসকারী ভোটার): ৫৪২টি
ফর্ম ৭ (নাম বাতিলের আবেদন): ৫,২০০টি
ফর্ম ৮ (ভুল সংশোধনের আবেদন): ১ লক্ষ ৭৫ হাজার
বিএলও বিতর্ক
এই আবেদন এবং শুনানি প্রক্রিয়ার চাপের মধ্যেই রাজ্যজুড়ে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একাধিক বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর বিরুদ্ধে বেআইনি কাজের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে আগেই মুখ খুলেছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal)।
মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বেআইনি কাজের জন্য কাউকে রক্ষা করা হবে না, তবে অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “প্রায় এক লক্ষ বিএলও নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। একজন বা দু’জন যদি বেআইনি কিছু করে থাকে এবং তার প্রমাণ থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসআইআর ঘিরে কোচবিহারের সাম্প্রতিক ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট জেলার ডিইও-র কাছ থেকে রিপোর্টও তলব করেছে। পাশাপাশি বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, সে ক্ষেত্রেও কমিশন জানিয়ে দিয়েছে - নিয়ম ভাঙলে দায় সংশ্লিষ্ট ডিইও-দেরই নিতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সিইও দফতরের অতিরিক্ত এইআরও চাওয়ার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। তাঁদের মতে, জনবল না বাড়ালে শুনানি প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। অতিরিক্ত এইআরও অনুমোদন পেলে এসআইআর শুনানি কতটা দ্রুত এগোয়, সেটাই দেখার।